জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন বাংলাদেশিরা

করোনায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশি চিকিৎসকের মৃত্যু, নার্স আক্রান্ত

মৃত্যু

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথের 'কেন' কবিতার দ্যোতনা আজ যেন নীরবে উচ্চারিত হচ্ছে বিশ্বের রাজধানী নামে খ্যাত নিউইয়র্ক নগরীতে। জীবনের সব কোলাহল যেন থমকে গেছে। সভ্যতার বিপর্যস্ত বাস্তবতায় এরপরও ঝলকে উঠছে মানবতার জয়গান। নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে এরা যেন বিশ্বকবির কবিতার উচ্চারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে কেউ কেউ ।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রেখে সেই কবিতার মতো অন্তহীন রাত পার করছেন চিকিৎসক ও নার্স। চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া বিশ্বজুড়ে করোনা আতঙ্কে আজ আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক চিকিৎসক ও নার্স মারা গেছেন। তবুও থেমে নেই তাঁদের প্রচেষ্টা।একজন রোগীর বেঁচে থাকার সবশেষ চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাঁরা।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশি- আমেরিকান বংশোদ্ভূত চিকিৎসক মোঃ ইফতেখার নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস নর্থ হাসপাতালে মারা গেছেন। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে নিউইয়র্ক সাস্থ্য বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এনবিসি'র উপদেষ্টা ডাঃ নাফিজ এ তথ্য আওয়াজবিডিকে নিশ্চিত করেন। ইফতেখার দেশের বাড়ি মানিকগঞ্জে।

এদিকে সোমবার করোনায় নিউইয়র্কে মারা গেছেন- বাকের আজাদ, আব্দুর রাজ্জাক, মোঃ আফতাব উদ্দিন, আবুল ফাররাহ ও মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ছফর উদ্দিনের মা।

সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট ৮২ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। দেশটির নিউইয়র্কেই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি মারা গেছেন।

শুধু মৃত্যু নয় আক্রান্তের দিক দিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের অবস্থান সবার উপরে। কোভিড-১৯ রোগী হিসেবে শনাক্ত মানুষের সংখ্যা এখন ১ লাখ ৩১ হাজার ৯১৬ জন। এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৭৫৮ জনের।

করোনা আক্রান্ত হয়েছেন আরেক বাংলাদেশি-আমেরিকান বংশোদ্ভূত নার্স। তিনি নিউইয়র্কের আইনস্টাইন ও মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের কর্মরত। আওয়াজবিডিকে তাঁর বন্ধু এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত এক রোগীকে আইসিউতে ভেন্টিলেটর লাগানোর সময় ওই রোগীর মাধ্যমে তিনি সংক্রমিত হন। বর্তমানে তিনি চিকৎসাধীন আছেন।

জীবন বাজি রেখে যাঁরা প্রতিনিয়ত শোকে কাতর হয়েও রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এ সম্পর্কে 
ডাঃ নাফিজ আওয়াজবিডিকে বলেন, যেদিন থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে শপথ করেছি, সেদিন থেকেই মানবসেবাই আমাদের ব্রত। যেকোনো পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে আমাদের কর্তব্য বলে মনে করি। পেছনের দিকে তাকানোর সময় নেই।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে করোনা আতঙ্ক সম্পর্কে ডাঃ নাফিজ আরো বলেন, আমি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এই পেশায় আছি। এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতের মধ্যে আমাদের যেতে হবে সেটা কখনো ভাবি নি।

তিনি আরো বলেন, আমি ইর্মাজেন্সিতে অনেক ধরনের রোগী দেখেছি তবে এমন করুণ অবস্থা কখনো দেখিনি। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা আশার আলো দেখতে পাবো বলেও তিনি জানান।

লং আইল্যান্ডের গ্লেনকোভ হাসপাতালের কর্মরত  বাংলাদেশি-আমেরিকান বংশোদ্ভূত আরেক চিকিৎসক আওয়াজবিডিকে বলেন, নিউইয়র্কের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সময়ের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে লং আইল্যান্ড। দিনদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

তিনি আরো বলেন, আমারা একজন চিকিৎসক হিসেবে রোগীর জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। যদিও কিছুটা করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমছে তবে আগামী দুই সপ্তাহ আমাদের সকলকে কঠিন সময়ের মধ্যেদিয়ে যেতে হবে।

শুধু মৃত্যু নয় আক্রান্তের দিক দিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের অবস্থান সবার উপরে। কোভিড-১৯ রোগী হিসেবে শনাক্ত মানুষের সংখ্যা এখন ১ লাখ ৩১ হাজার ৯১৬ জন। এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৭৫৮ জনের।

করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৮৭৬জনের।


শাহ আহমদ সাজ
শাহ আহমদ সাজ
https://www.awaazbd.net/author/awaaz-usa

শাহ আহমদ বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় জন্মগ্রহন করেন। শিক্ষা জীবনের শুরু ঢাকার সানরাইজ প্রি ক্যাডেট এন্ড কলেজে। তারপর ২০০৪ সালে কুলাউড়ার জালালাবাদ হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ২০০৬ সালে মদন মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ২০০৭ সালে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি অনার্সে ভর্তি হন।এরপর ইনফরমেশন টেকনোলজিতে পড়ালেখার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমান এবং ক্রাউন ইন্টারন্যাশনাল কলেজে ব্যাচেলর শেষ করেন। বর্তমানে সপরিবারের যুক্তরাস্ট্রে বসবাসরত শাহ আহমদ, ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য ও সৃজনশীল সবধরনের কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে আওয়াজবিডি ও সাপ্তাহিক আওয়াজবিডির প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশের দায়িত্ব পালন করছেন।শাহ আহমদ বাংলাদেশ ডন-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।

mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ