ডিম ও বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলে আর জোড়া লাগে না, তেমনি আবেগে জীবন চলে না

শাহ আহমদ সাজ

আজ লেখার পূর্বে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি!

কোন জায়গা থেকে শুরু করব ভেবে পাচ্ছি না তবে আমাদের জীবনে আশপাশে ঘটে যাওয়া বর্তমান সময়ের কিছু ঘটনা এই লেখায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা।

শুরুটা আজ কাছের প্রিয় মানুষদের নিয়ে। হয়তো গল্পটা মিলে যেতে পারে। জীবনের অনেকটা সময় আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগী। যার কারণে অনেকটা সময় ক্ষুদ্র জীবনে চলে যায়। আর এইভাবে একটা সময় সবকিছু হারিয়ে যায়।

যেমনটি শুরুতেই বলেছি প্রিয় মানুষদের নিয়ে। সেখানে প্রিয়টা অপ্রিয় হলেও আপনার একান্ত কাছের মানুষও হতে পারে। হতে পারে আপনার ভালোবাসার মানুষটিও! যেহেতু প্রিয় মানুষটি বলেছি সবার আগে বর্তমান সমাজে বাবা-মা পরিবারের আগে প্রেমিক-প্রেমিকা চলে আসে। আর আমরা যেহেতু সৃষ্টির সেরা জীব সেক্ষত্রে মানুষ মানুষকেই ভালোবাসবে সেটাই স্বাভাবিক।

আমাদের বর্তমান প্রজন্মে প্রেম, পরকীয়া, ভালোবেসে বিয়ে, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর সন্দেহ থেকে ঝগড়া থেকে ডিভোর্স এখন নিত্যদিনের সঙ্গী।আবার একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক তরুণ-তরুণী জীবনকে বুঝার অথবা উপলব্ধি আসার আগেই অন্ত:সত্তা, না হয় প্রেমীকের প্ররোচনায় ধর্ষণের শিকার। কেউ আবার স্বামী-সন্তান রেখে প্রেমিকের সাথে উধাও। সংসারে অশান্তির কারণে বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমেও পাঠিয়ে দিচ্ছি।

আর এসব যুগের পর যুগ ধরে হয়ে আসছে আমরা কথার কথা বলি কিন্তু বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগে ইন্টারনেটের বদৌলতে সোশ্যাল প্লাটফর্মকেও দোষারোপ করি।

তবে এই যতকিছু আবিষ্কার সব মানুষের হাত ধরেই তাহলে এই আবিষ্কারের সুফল থেকে কুফলেই যেন আমরা হারিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু যুগের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে আমরা যেন বড় যান্ত্রিক হয়ে গেছি। আর এই কারণে সত্যিকারের ভালোবাসাটাই যেমনটি হারিয়ে যাচ্ছে তেমনি কমে যাচ্ছে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, বাড়ছে দূরত্ব, সমাজে অশান্তি, সংসারে ভাঙন, জীবন গড়ার আগেই কেউ বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ আবার কেউ মরণব্যাধী নেশার মাঝে খুঁজে পাচ্ছে অজানা গন্তব্য, কেউ বা না পাওয়ার বেদনা সইতে না পেরে করছে খুন, বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা।

একজন মানুষ যখন আরেকজন মানুষকে ভালোবাসতে শুরু করে তখন মনে হয় এই মানুষটি তার কাছে পৃথিবী। দু'জনের সম্পর্ক গড়ার বহমান নদীর পানি যখন স্রোতের সাথে একই দিকে যাচ্ছে তখন নিজেদের অজান্তেই জায়গা করে নিচ্ছে অনুভূতি, ছোট ছোট স্বপ্ন এবং আগামীর অনেক আশার বালুর চরে জমানো প্রত্যাশার বালুকণা। এই ক্ষুদ্র বালুকণাগুলোকে নিয়ে একদিন বড় হয় ভালোবাসার তাজমহল।

তবে সেই তাজমহলটিও ভেঙে যায়। কারণ আমরা এমনিই! আর এই কথার সাথে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, নাট্যকার মুনীর চৌধুরীর লাইনগুলো মনে পড়ে গেল। “ মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায় ”

আমরা বদলাই কেউ বা কারণে, কেউ বা অন্যের কারণে আবার কেউ নিছকই অজুহাতের দোহাই দিয়ে।

তাই বর্তমান যে চিত্র সেখানে এই বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা জরুরি:

১. আপনি একটা সময় একজন মানুষকে ভালোবেসে সবকিছু করছেন। তার রাগ, অভিমানকেও ভালোবেসে সুখ খোঁজে নিচ্ছেন কিন্তু সেই মানুষটি আপানার সেই ভালোবাসা মূল্য দিচ্ছে না। তার মানে এই নয় সেই মানুষটি আপনাকে ভালোবাসে না। হয়তো সেই কারণটি আপনি খোঁজার চেষ্টা করেন নি। কারণ যে মানুষটিকে আপনি ভালোবাসেন তারও কষ্ট থাকতে পারে যা আপনি শতভাগ দেওয়ার পরও সেই জায়গাটি পূরণ করুন।

২. শুধু কিছু সময়ের আবেগ, কথা ভালো লাগা, দেখতে সুন্দর এই মানসিকতা নিয়ে কারো সাথে বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক করা উচিত না।

৩. জীবনকে গড়ে, নিজেকে তৈরি করে আপনার বন্ধু নির্বাচন করুন। কারণ একটি মানুষের সাথে কিছুটা সময় কাটিয়ে আপনি জীবনের বাকি মূল্যবান সময়টুকু নষ্ট করতে পারেন না।

৪. যে বাবা-মা নিজে না খেয়ে, সব সুখকে বিসর্জন দিয়ে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলার কারিগর হিসেবে কাজ করছেন তারও পছন্দের মূল্য দিন। আপনার না বলা কথা গুলো শেয়ার করুন। কারণ একদিন আপনিও সন্তানের বাবা-মা হবেন।

৫. পরিবারেরও উচিত সন্তানের শুধু পড়ালেখার বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর না হওয়া। ভালো মানুষ করে গড়ে তুলতে সন্তানদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক খুবই জরুরি। তাহলে সন্তানও বুঝবে বাবা-মাকে, বাবা-মাও বুঝবে সন্তানকে।

পরিশেষে বলতে চাই, যদি কেউ প্রিয় মানুষটির কারণে সবকিছু ছাড়তে রাজি ভেবে তৈরি হচ্ছেন তবে সেই কাজটি করতে বিরত থাকুন। আবেগে, ভালোবেসে, বিশ্বাস করে আপনি যা করছেন তার যথাযত মূল্যায়ন না করে শুধু নিজের অনুভূতি দিয়ে আরো প্রিয়মুখগুলোকে আড়াল করে চলে যাচ্ছেন যা কখনো সুখের হবে না।

আজ যে মানুষটি আপনার সম্পর্কটাইকে সম্মান করছে না, যে কিনা অবিশ্বাস, সন্দেহ নিয়ে চলছে, কোনো পরিস্থিতি কখন কোথায় মোকবেলা করতে হয় সেটা জানে না তাহলে বাকিটা জীবন আপনি কিভাবে একসাথে চলবেন।

জীবনটা আবেগ দিয়ে যেমন চলে না, তেমনি ডিম ও বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলে আর জোড়া লাগে না।তাই আবেগ দিয়ে সবকিছু করার আগে নিজেকে তৈরি করুন তার যেন যে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। দেখবেন সময়ই আপনার কাছে তাকে নিয়ে আসবে।

লেখক: সাংবাদিক. সম্পাদক


শাহ আহমদ সাজ
শাহ আহমদ সাজ
https://www.awaazbd.net/author/awaaz-usa

শাহ আহমদ সাজ ১৯৮৭ সালে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জন্মগ্রহন করেন। শিক্ষা জীবনের শুরু ঢাকার সানরাইজ প্রি ক্যাডেট এন্ড কলেজে। তারপর ২০০৪ সালে কুলাউড়ার জালালাবাদ হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ২০০৬ সালে মদন মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ২০০৭ সালে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি অনার্সে ভর্তি হন।এরপর ইনফরমেশন টেকনোলজিতে পড়ালেখার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমান এবং ক্রাউন ইন্টারন্যাশনাল কলেজে ব্যাচেলর শেষ করেন। বর্তমানে সপরিবারের যুক্তরাস্ট্রে বসবাসরত শাহ আহমদ, ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য ও সৃজনশীল সবধরনের কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে আওয়াজবিডি ও সাপ্তাহিক আওয়াজবিডির প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশের দায়িত্ব পালন করছেন।শাহ আহমদ বাংলাদেশ ডন-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।

mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ