কে এই চোর? (ভিডিও)

২১০
কে এই চোর?  (ভিডিওস)

অভিনব পন্থায় চুরি হচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে। প্রথমে একটি বাড়ী টার্গেট করা হচ্ছে। এর রাতের প্রথম প্রহরে বাড়ীর আশপাশে অচেতন করা স্প্রে ছিটিয়ে দিয়ে অচেতন করা হচ্ছে বাড়ীর গৃহকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে। সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যাচ্ছে এই চোরের দল। এমন ঘটনা বালিয়াডাঙ্গীতে এখন অহরহ।

বাড়ীতে সিসি ক্যামেরা দিয়েও নিস্তার পাননি বাড়ীর মালিক। ঝঁকঝকে বিদ্যুতের আলো থাকার পরও বাড়ীর সিসি ক্যামেরার তার কেটে দিয়ে দুধর্ষ চুরির চেষ্টা করেছে এই চোর। তবে মুখে কাপড় বেধে।

গত ১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে একটুর জন্য দুধর্ষ চুরির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন মকবুল হোসেন মাস্টার। তবে চোরের দেয়া অচেতন করা স্প্রে'র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ৭ দিন পার হয়ে গেলেও এখন কাটেনি।

গত ১ ডিসেম্বর রাতে বালিয়াডাঙ্গী-ঠাকুরগাঁও সড়কের ব্র্যাক অফিসের পার্শ্বে প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেনের বাড়ীতে দুধর্ষ চুরির চেষ্টা চালায় চোরেরা। বাড়ীতে সিসি ক্যামেরার কারণে চুরিতে সফল হতে পারেনি তারা। তবে মুখে কাপড় বেধে কৌশল অবলম্বন করতে ভুলেনি চোরের দল।

মকবুল হোসেন লালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর প্রথম সন্ধ্যায় তার বাড়ীতে অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় চোরেরা। এরপরে তিনি বাড়ীতে সিসি ক্যামেরা লাগান নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু নিরাপত্তা কতটুকু?

মকবুল হোসেন জানান, গত ১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে অচেতন নাশক স্প্রে ছিটিয়ে চুরির চেষ্টা করে চোরের একটি দল। মুখে কাপ বেধে সিসি ক্যামেরাগুলোর তার কেটে দেয়। রাত পৌনে ২টার সময় আমার স্ত্রী টের পেয়ে উঠলে চোরেরা পালিয়ে যায়।

মকবুল হোসেনের স্ত্রী জানায়, প্রথমে জানালা ভেঙ্গে ঘরের ভেতর প্রবেশ করেন গেটেখুলে। মুখে কাপ বেধে সিসি ক্যামেরাগুলোকে অফ করে।

জানা গেছে, স্প্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঘটনার দিন থেকে প্রায় ৭ দিন স্বাভাবিক কথা বলতে পারেনি ওই শিক্ষক।

রবিবার তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিনি এখন পর্যন্ত ডাক্তারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলাফেরা স্বাভাবিক হলেও কথাবার্তায় ভারী ভারী মনে হচ্ছে।

গেল মাসের ৮ তারিখে পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টে (সিআইডি) কর্মরত এসআই জমসেদ আলীর গ্রামের বাড়িতে অভিনব কায়দায় স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার দুধর্ষ চুরি হয়। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের সর্বমঙ্গলা ডুয়াডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনায় পুলিশ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেই বসে আছে। কোন রহস্য উন্মোচন হয়নি এখনও।

শুধু তাই নয়, চলতি বছরে পুকুরে মাছ চুরি, গরু চুরিসহ নানা ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত তেমন কোন চুরির রহস্য উন্মোচন। অভিনব কায়দায় চুরির ফলে এলাকাবাসী চরম আতঙ্কে রয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি হাবিবুল হক বলেন, আমি মাত্র কয়েকদিন হলো থানায় এসেছি। মাস্টারের বাড়ীতে চুরির ফুটেজ পুলিশ সংগ্রহ করেছে। আশা করছি খুব শ্রীঘ্রই চোরকে খুজে পাওয়া পাবে।

ঊম্মে হাবিবা মিম
ঊম্মে হাবিবা মিম
https://www.awaazbd.net/author/201910281572260025
ads