মায়াতেই মানুষের সর্বনাশ, মায়ের ক্রন্দন

অনলাইন ডেস্ক
মোঃ রেদওয়ানুল হক মিলন
২৯ আগস্ট ২০১৯, ০৫:৫৯ অপরাহ্ণ
২৯১
জনাব, মনিরুজ্জামান মিলন

ছোট বেলার একটি গল্প মনে পড়ছে বাংলাদেশে এক সময় সার্কাস, লক্ষিধাম, কবিরগান,বিশোহরির গান, খুবই জনপ্রিয় ছিল। বিশেষ করে আমাদের রংপুর অঞ্চলে অনেক বেশি সার্কাস ছিল তারা সারা দেশ ঘুরে বেড়াতেন হাতি, ঘোড়া, বানর, বাঘ নিয়ে। বানরের সাথে মানুষ খেলা করতো। আর আমরা দেখতাম। আমি তখন ৫ম শ্রেনিতে পড়তাম সহপাঠিরা মিলে সার্কাস ও বানর নাচ দেখতে যেতাম দলবেঁধে। তবে সার্কাস বেশি জমতো গ্রামগঞ্জে। মানুষের ভিড় থাকতো রাতজুড়ে। এখন সে বাঘ, বানর, ঘোড়া কিছুই নাই। মানুষের মন বদল হয়ে গেছে। এমন কি তথ্য প্রযুক্তির যুগে এসে যাত্রাপালাও শেষ হয়ে গেছে। পুতুল নাচেও শিশু-কিশোরদের তেমন আগ্রহ নেই।

যখন ছোট ছিলাম বড় ভাইদের সাথে নদী, পুকুরে গোসল করতে যেতাম, গোসল করায় নিতাম, তবে গোসলের আগে ফুটবল খেলতাম আনন্দের শেষ ছিলনা। এখন সে দিন নেই। নেই সেই নদীর বালু চরে গোসলের আগে ফূটবল খেলা আনদন। মানুষ এখন ব্যাস্ত জীবন পার করছে। তবে ভাইদের সাথে কাটানো মুহূর্ত গুলো বার বার উঁকি মারে মনের জানালায়। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু অর্জন করেছি। তাদের সাথে না মিশলে বা তারা আমার সাথে না থাকলে আজ এতো বড় হতাম না। এতো বড় বড় কথা বলতে পারতাম না। থাকুক সে কথা।

জনাব, মনিরুজ্জামান মিলনকে বড় ভাইয়ের মতো ভালোবাসি সম্মান করি শ্রদ্ধা করি এবং ওনার কথা গুলো মনযোগসহকারে শুনে অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করি। আমরা ৫ ভাই আমি সবার ছোট বাকিরা সবাই বড় তার মধ্যে জনাব, মনিরুজ্জামান মিলন একজন।

জনাব, মনিরুজ্জামান মিলনের সাথে আমার একটা ভালো সম্পর্ক। তবে ২৮ জুন ২০১৮ ইং থেকে সম্পর্কটা আরো গভীর হয়ে ওঠে। গত ২৮ জুন ২০১৮ ইং আজ পর্যন্ত সে আমার সকল বিষয়ের সাথে জড়িত। তিনি আমার সুখে সাথী, দুঃখের সাথী এবং সহকর্মী হয়েও একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। গতকাল জনাব, মনিরুজ্জামান মিলনের মায়ের সাথে আমার কথা অনেক বিষয়ে কথা হয় এক সহকর্মীর বিষয়ে।

কথা বলার এক পর্যায়ে ছেলে (জনাব, মনিরুজ্জামান মিলন) এর বিষয়ে কথা বের করেন। ছেলে (জনাব, মনিরুজ্জামান মিলন) কে নিয়ে মা খুবই চিন্তিত মায়ের বুকের ভিতরে অন্তহীন বেদনা ও ক্রন্দন রয়েছে ছেলের জন্য। ছেলে ( জনাব, মনিরুজ্জামান মিলন) কে নিয়ে যে মায়ের গভীর বেদনাবোধ আমাকে তাড়িত করে অনেক আবেগপ্লুত করে এবং আমার বিবেককে নাড়া দেয় সেটি হচ্ছে একমাত্র ছেলের জন্য কিছু করতে না পারার বেদনা। যখন ছেলেকে নিয়ে প্রতিটি কথার শব্দে শব্দে আবেগ যুক্তি ও বেদনার অশ্রু জড়িয়ে আছে। আমি বুঝিতে পারছি না জনাব, মনিরুজ্জামান মিলন যাদের সম্মান করেন, শ্রদ্ধা করেন যাদের সান্নিধোহ থাকেন, যাদের সাথে আপন মনে মেলা মেশা করেন তারাই আপনাকে নিচে নামাচ্ছে বা বিপদের মুখে ফেলতেছে।

তার পরেরও তিনি তাদের পাশে রয়েছেন অবিরাম। যে জুনিয়র বা বন্ধুদের জন্য বার বার অপমানিত হন। নিঃস্বার্থহীন ভাবে তাদের পাশে থেকে বিভিন্ন রকমের সহযোগীতা করেছেন। তার পরেরও তিনি তাদের কাছে খারাপ। তবুও তিনি তাদের কে ছাড়ছেন না কেননা জুনিয়র ও বন্ধুদের প্রতি জনাব, মনিরুজ্জামান মিলনের এক ধরনের মায়া জল্মেছে। জনাব, মনিরুজ্জামান মিলন হয়তো ভুলে যাচ্ছেন মায়াতেই মানুষের সর্বনাশ করে ছাড়ে। তাই জনাব, মনিরুজ্জামান মিলনের উচিৎ তাদেকে ছেড়ে দিয়ে এক নতুন অধ্যায়ে শুরু করুন। এতে আপনি ভালো থাকবেন আর বিপদগামীরা বিপদের ছায়া হয়ে দাড়াতে পারবে না।

সমাজের অনেক অসংগতি অবাবস্থাবনা আর চির-চেনা মানুষদের সাথে আপনাকে মেলাতে চাই না। তবে বাংলাদেশের জটিল রাজনীতিতে একটি ব্যাক্তিই ছিলেন যিনি সব সময় সিন্ধান্ত হীনতায় ভুগেছেন থাকুক রাজনীতি। কেননা রাজনীতির সাথে আপনার কাহিনী মেলাতে চাই না। জনাব, মনিরুজ্জামান মিলন ব্যাক্তিগত ভাবে আমি কিছু কথা বলতে চাই আপনাকে। আমি জানি না আমার কথা গুলো আপনি কিভানে নিবেন। তার পরেও বলতে চাই কেননা আপনাকে বড় ভাইয়ের জায়গায় স্থান দিয়েছে। বড় ভাইয়ের মত সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি ও আপনাকে মেনে চলার চেষ্টা করি। যখন বড়রা কোন ভুল করে তখন ছোটদের উচিত সে ভুলটা ধরিয়ে দেওয়ার। আমি জানি না আপনি কিভাবে নিবেন আমার কথা গুলো তার পরেও ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

আগেই পরিষ্কার করে বলি আমি কারো বিরুদ্ধে কথা বলছি না, আপনার কানও ভারি করছি না। , বা কারো গিবদ করছি না। কেননা দয়াময় আল্লাহ গিবদকারীকে পছন্দ করেন না। আর আল্লাহ বান্দা হয়ে কিভাবে এ কাজ করি আল্লাহ তো নারাজ হবেন। জনাব, মনিরুজ্জামান মিলন আপনি যাদের নিয়ে চলেন বা যাদের সাথে আপনার আত্মার সম্পর্ক তাদের জন্যই একদিন আপনাকে অপমানিত  হতে হবে কেননা আপনার চলাফেরা শিশুদদের কেউ হার মানায়। একজন জুনিয়র কেন একজন মোস্ট সিনিয়রের সাথে এতো ফ্রিলি ভাবে কথা বলবে হ্যা বলবে কেন বলবে না কিন্তু এটার একটা সীমা থাকা দরকার, আমি দেখেছি তারা মাঝে মাঝে সীমা অতিক্রম করে ফেলে তার পরেও আপনি কিছুই বলেন না। কেন বলেন না তা আমি জানি না। আর জানতে ও চাই না। সেটা আপনার নিজস্ব ব্যাপার।

জনাব, মনিরুজ্জামান মিলন শিক্ষা দীক্ষায় আপনি অনেক উচু স্থানে আছেন। আপনাকে যারা ব্যাক্তিগত ভাবে চেনে বা জানে আপনি তাদের কাছ থেকে ভালোই শ্রদ্ধা কুড়ান। বাইরে আপনার একটা আলাদা সম্মান আছে ৫/ ১০ জন রাস্তাঘাটে দেখলে সালাম দেয় মাথা নাড়ে সম্মান দেখায়। সেখানে আপনি একদল ছেলের সাথে ঘুরে নিজের মান সম্মান আপনি নিজেই নষ্ট করছেন জনাব, মনিরুজ্জামান মিলন একটা কথা সব সময় মনে রাখবেন আপনাকে যারা পছন্দ করে আপনার সাথে থাকা ব্যাক্তিদের তারা ততটা পছন্দ নাও করতে পারে। এটা আপনাকে বুঝতে হবে  কেননা আপনার শিক্ষা, আপনার ভাষা, আপনার চলাফেরার সাথে আপনি কিভাবে বাকিদের মেলান আমার বুঝে আসেনা। আপনি কি ভুলে যাচ্ছেন আপনি একজন প্রাইভেট স্কুলের শিক্ষকতা করেন একজন ছাত্র যদি দেখে আপনি একজন কাউয়ার সাথে চলাফেরা করেন তখন ওই ছাত্রটার মনে আপনার সম্পর্কে কি ধারনা করবে।

আপনি একজন সাংবাদিকতা পেশায় আছেন আপনার ভাষা সুন্দর, আপনার লেখা সুন্দর, আপনার ভিতরে যে প্রতিভা আছে জ্ঞান আছে আমি হলফ করে বলতে পারি ঠাকুরগাঁওয়ে গত ৪ বছরে যত নতুন সাংবাদিক এসেছে তাদের কারো যোগ্যতা নেই আপনার ধারের কাছে যাওয়ার। আপনি হয়তো মনে করছে আমি তেলবাজি করছি বা চাটুকারিতা করছি  সত্যি কথা বলতে কি জানেন আমার পিতা মাতা আমাকে এ শিক্ষা দেয়নি। আর আপনি ভালো করেই জানেন আমি তেল বাজি তেমন একটা পছন্দ করি না। জনাব, মনিরুজ্জামান মিলন মনে রাখবেন যেখানে ৮ম শ্রেনি পাস, মোটরসাইকেল সিট কাভার বিক্রেতা ও ১০ম শ্রেনি ফেল করা ব্যাক্তিটি যদি দাম্ভিকতার সাথে সাংবাদিক করতে পারে তাহলে আপনার মতো একজন প্রতিভাবান ব্যাক্তি উচ্চশিক্ষারনুরাগী ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুল পড়ুয়া মহা পন্ডিত হয়েও কেন আপনি মোটরসাইকেল সিট বিক্রেতা, ও ৮ম শ্রেনিপাস ও অফিসের চা পান আনা পিয়ন যিনি এখন সাংবাদিক তার কাছে হার মানছেন। কেনই বা আপনি হপাডাঙাদের সাথে ঘুরে ঘুরে নিজের সম্মান ক্ষুন্য করছেন?

আমাদের বিশ্বাস আপনি ৫/১০ সৎ সাহসী আদর্শ বান চরিত্রের যারা আপনাকে মেনে চলবে আপনার নুন খেয়ে আপনারই গুনাগান গায়বে তাদের কে কাজ শেখান। এখনো অনেক ছেলে আছে যারা সাংবাদিকতা শিখতে চাই কিন্তু ভালো শিক্ষিত সাংবাদিক পায়না। তাদের নিয়ে একটা দল করেন। কাজ শুরু করেন দেখবেন আপনি সফলতা পাবেন। জনাব, মনিরুজ্জামান মিলন একটি কথা মনে রাখবেন যারা আপনার সমালোচনা করে তারাই আপনার পরম বন্ধু। আরেকটা কথা মনে রাখবেন জনাব, মনিরুজ্জামান মিলন তেলবাজরা কখনো সমালোচনা করেনা তারা কখনো আপনার ভুল ধরিয়ে দেবেনা পারলে তেল মারে আরো উপরে ওঠাবে। মনে রাখবেন আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেকে শুদ্ধ হতে হবে, আত্মসমালোচনা কোন খারাপ না। আমাদের আত্মসমালোচনার প্রয়োজন আছে মনে রাখবেন আত্মসমালোচনা না করলে আত্মশুদ্ধি করা যায় না।

মানুষ তার চলার পথে ভুল করবেই আর আমাদের ভুল হবেই আমরা মানুষ ফেরেশতা নই বা শয়তানও নই যে আমাদের ভুল হবে না। ভুল না করলে মানুষ শিখবে না জীবনে একবার দুবার ইচ্ছা করেই ভুল করতে হয় যাতে ভালো কিছু গ্শেখা যায়। মনে রাখবেন যেখানে ভুল করবেন সেখানেই আবার নতুন করে শুরু করবেন। জনাব, মনিরুজ্জামান মিলন যারা আপনাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করেছে, যারা দাম্ভিক্কতার সাথে চলাফেরা করে তাদেরকে ছেড়ে দিন। যে বন্ধু শুধু বিপদের সময় আপনাকে স্বীকার করে আর সুখের সময় আপনাকে অস্বীকার করে তাদেরকে আপনি এখনো ছাড়ছেন না কেন? তাদেরকে যত তারাতাতি ছাড়বেন তত তারাতারি আপনার জন্য মঙ্গল। আর যারা আপনানে মেনে চলে না বা আপনাকে মুল্যায়ন করে না তাদেরকে আউট করেন  যাদের জন্য আপনাকে পদে পদে কথা শুনতে হয় তাদের সাথে এতো কথা কেন?। জনাব, মনিরুজ্জামান মিলন আপনার কাছে মানবিক দৃষ্টি থেকে ২ টি প্রশ্ন ১. যাদেরকে আপনি নিজের মনে করেন বা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন, অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিঃস্বার্থহীন ভাবে পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন তাদের কাছ থেকে আপনি কি পেয়েছে বা তারা আপনাকে কি দিয়েছে যা আপনি ছাড়তে পারছেন না?  ২. বার বার অপমানবোধ হওয়ার পরেও কেন আপনি নিঃস্বার্থহীন  ভাবে পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন?

জনাব, মনিরুজ্জামান মিলন ভাই দিন বদলেছে মানুষও বদলেছে। মানুষ আর আগের মতো নাই। মানুষ আর আগের মতো নিজেকে লালন করছে না। মানুষের মাঝে মনুষ্যত্ব বলে এখন কিছুই নেই থাকলে আর এই রকম বেইমানি করতো না। আপনি একজন শিক্ষিত পন্ডিত হয়েও বুঝছে না যে মানুষ আর মানুষ নাই। যামানা বদলেছে তাই মানুষও বদলেছে। সমাজে চলার মতো মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিশ্বাস করুন মাঝে মাঝে শুধুই ক্লান্তির ছায়া দেখি চারপাশে। জীবন জগত নিয়ে ভাবনা গুলো কোথায় জানি হারিয়ে যাচ্ছে। আবেগ, প্রেম, ভালোবাসা সম্পর্কের বন্ধনগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। কারও কথা আজ কাল ভালো লাগে না। আর লিখে সব কথা প্রকাশ করা  যায় না।

লিখতে বসলে ভাঙা হ্নদয়ে বেদনাবিধুর চিত্রে বিকাশগ্রস্ত হয়ে একটি কথায় ভাবি কোথায় বাস করছি আমরা কোথায় যাচ্ছি। যেখানে ছোটরা বড়দের সম্মান করে না। থাকুক সে কথা আবেগের ঢেউয়ে আর ভাসতে চাই না। পরিশেষে সবিনয়ের সাথে একটা কথা বলতে চাই অনেক হয়েছে এবার একটু সিরিয়াস হন। ছোট ভাই থাকুক ছোট ভাইয়ের জায়গায়, বড় ভাই বড় ভাইয়ের জায়গায়, বন্ধু থাকুক বন্ধুত্বের জায়গায় আর আপনি থাকেন আপনার জায়গায়। শেষ বেলায় বলতে চাই একজন ছোট মানুষ হয়ে আপনার সম্বন্ধে অনেক কথা বলে ফেললাম বেয়াদবী নিবেন না। আমার কথায় যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে বড় ভাইয়ের জায়গা থেকে ক্ষমা করে দিবেন

লেখকঃ রেদওয়ানুল হক মিলন

Email: redoanulhaquemilon@gmail.com


mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ