থানা হাজতে নারী গণধর্ষণ, দেশের কঠিন সময়ে মন্ত্রীর বিদেশ ভ্রমণ

রেদওয়ানুল

কেন যেন মানুষের স্বস্তি নেই, শান্তি নেই। অনেক দিন হয়ে গেল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে কেন বাইরে, কী প্রয়োজনে বাইরে জানতে চাই না। তিনি তাড়াতাড়ি দেশে ফিরে আসুক। অন্যদিকে খুন, ধর্ষণ সড়ক দুর্ঘটনা তো লেগেই আছে। তার পরেও ডেঙ্গু আমাদের শেষ করে দিচ্ছে। এমন ডেঙ্গু বাংলাদেশে কখনো দেখেনি। অথচ এর কোন প্রতিকার নাই। মশা মারতে আমাদের দুই নগর পিতা ব্যর্থ হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে সারা দেশ চিন্তিত। দেশের এমন কঠিন সময়ে একজন দায়িত্ববান মন্ত্রীর বিদেশ সফর কোন মতেই মানতে পারছি না।

আমরা জানি, মন্ত্রী মানে মানুষের খাদেম। আওয়ামীলীগ গণমানুষের দল। এদেশের মুল নেতা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমান। তিনি জন্মগ্রহন না করলে এদেশ জন্মহত না।

আমি মোঃ রেদওয়ানুল হক মিলন এভাবে বাংলা ভাষায় লিখতে পারতাম না। সেই দলের মন্ত্রী হয়ে ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে আপনি একজন সাংবাদিককে ধমক দিতে পারেন না। সামান্যতম মনুষ্যত্ব ও রুচি থাকলে আমাদের সাংবাদিকদের সাথে এমন আচরণ করতেন না।

এমনিতেই আপনি সমালোচনার মুখে দেশে ফিরেছেন। আপনাকে যখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেন। হঠাৎ এই মুহূর্তে বিদেশ কেন গেলেন? জবাবটা শালীনভাবে দিতে পারতেন। ব্যাক্তিগত সমস্যার কথা ও বলতে পারতেন দুঃখ প্রকাশ করতে পারতেন দেশবাসীর কাছে। এমনিতেই সব চুকে যেত। তা না করে আপনি একজন সম্মানিত ব্যাক্তি হয়ে আমাদের সাংবাদিকদের ধমক দিয়ে থামিয়ে দিলেন। মানুষের প্রতি দরত না থাকলেই এমনি হয়। নিশিরাতের এমপি মন্ত্রীরা মানুষের মনের ভাষা বুঝে না। যদি বুঝত তাহলে আর দেশের এই কঠিন সময়ে স্বপরিবার নিয়ে বিদেশ ভ্রমন করতে যেতেন না।

সারাদেশের মানুষ আজ ডেঙ্গুতে আতঙ্কিত ও অশান্তিতে জীবনযাপন করছেন। দেশের হাসপাতাল গুলোতে রোগীতে ছুঁয়াছুঁয়ি হাসপাতাল গুলো ঠাই ঠাই অবস্থা। অর্ধশতাধিক মানুষের মুত্যু হয়েছে ডেঙ্গুজ্বরে। এমনকি আমাদের এক সচীবের স্ত্রীর ও ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মুত্যু হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ রক্ত পরিক্ষা করার জন্য হাসপাতাল গুলোতে ভিড় করছে। দেশে প্রতিটি জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়েছে। জেলায় জেলায় মাইকিং করা হচ্ছে মানুষ্কে সচেতন থাকার জন্য।

এমন পরিস্তিতিতে জাতীয় সংসদের সংরিক্ষিত মহিলা আসনের এমপি কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম এক আলোচনা সভায় বললেন যে, ডেঙ্গু নিয়ে গুঁজব ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বর আসলেই মানুষ মনে করে ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে। বিষয়টা আসলে তা নয়। ডেঙ্গুতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নাই। একদল মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে গুঁজব ছড়াচ্ছে। মাননীয় এমপি আরো বলেন, যদি আপনাদের ডেঙ্গু হয়ে থাকে তাহলে আমাদের হাসপাতাল গুলোতে আসেন। আমাদের পযাপ্ত মেডিসিন ব্যবস্থা রয়েছে।

পূর্বেই বলেছি, ক্ষমতাসীন দলের এমপি-মন্ত্রীরা বাতাসের বেগে চলে। তারা রাত-দিন স্বপ্নের জুয়ারে ভেসে বেড়ায়। আওয়ামীলীগ গণমানুষের দল। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার মহাননায়ক জাতির মহত্তর নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমান। তাই জাতির পিতার প্রতিষ্ঠিত দলে কোন অযোগ্য ব্যাক্তির স্থান হতে পারে না। কোন মূর্খের স্থান হতে পারে না। এদেশ কে নিয়ে কোন ছেলেখেলা হতে পারেনা। কেননা এদেশ ৩০ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে। দেশের মানুষকে কষ্ট দেওওয়া মানে জাতির পিতাকে কষ্ট দেওয়া। এই মেয়াদের কিছু রংবাজ এমপি-মন্ত্রীদের বেভাস ও বেহুদা কথাবার্তার জন্য আমাদের আদর্শের নেতা, আমাদের বঙ্গ পিতা আত্মা কষ্ট পাক সেটা কেউ মেনে নিবেন না।

তাই সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম বাতাসের বেগে চলে। কল্পনার সমুদ্রে ভেসে বেড়ায় বলে এই রকম বেভাস, ও বেহুদাপনা কথা বলে ওনার মাথায় যদি কিঞ্চিৎ জ্ঞানের আলো থাকতেন তাহলে দেশের এই কঠিন সময়ে বেকুবি কথাবার্তা বলতেন না।

অনেক দিন আগে স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা জনাব, নুরে আলম সিদ্দীকীর একটা টিভি টকশো দেখেছিলাম। আমি এখনো ওনার লেখা নিয়মিত পড়ি। তিনি সেই টকশোতে বলেছিলেন আজ-কাল নাচ-গান করে এমপি-মন্ত্রী হওয়া যায়। যারা ত্যাগী নেতা কর্মী, যারা মাঠে ময়দানে কঠোর পরিশ্রম করে। মিটিং মিছিলে রক্ত ঝড়ায় তারা তেমন মুল্যায়িত হন না। যারা গান গেয়ে ভোক্ত কুড়িয়েছে তারাই আজ সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলে গান গায়। জাতীয় সংসদ হল জাতি ভাগ্য নির্ধারণের পবিত্র স্থান। যেখানে জাতির ভাগ্য নিয়ে কথস বলা হয়  ৩০০ বিধিতে মন্ত্রীদের তলব কতা যায়। সেই মহান পবিত্র স্থানে বাউলি গানের মঞ্চ তৈরি করেন এমপি মমতাজ বেগমের মত আরো সংসদরা ওনারা সেসময় ভুলে যান যে এটা জাতির ভাগ্য নির্ধারণের পবিত্র স্থান, বাউলি গানের মঞ্চ হয়।

জাতির মহত্তর নেতা বেঁচে থাকলে কি বলতেন আমি জানি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব দয়া করে এদের লাগাম টেনে ধরুন। সমগ্র জাতি আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। এরাই আপনার ও আপনার দলের বারোটা বাজাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনে রাখবেন অতিৎসাহিরা চারপাশের সর্বনাশ ডাকে আনে।

ধর্ষণের সিরিজ যেন শেষেই হচ্ছেনা। প্রতিদিনই ধর্ষণ, খুন, সড়ক দুর্ঘটনা লেগেই আছে। কিন্তু পুলিশ সেগুলো আমলেই নিচ্ছে না, ধর্ষণের মামলা ও নিচ্ছেনা। সব এখন টাকার কাছে নত। যার টাকা আছে সে রাজা, আর যার তাকা নাই সে প্রজা হয়ে নির্মম জীবন-যাপন করেন। আমরা সঠিক বিচার পাওয়ায়ার আশায় আইনের শরণাপন্ন হয়। পুলিশের কাছে অসহায়ের মত ছুটে যায় সাহায্যের জন্যে। কিন্তু সেই পুলিশ যদি একজন নারীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে শ্লীলতাহানি করে তাহলে যাব কোথায়?

গত রবিবার খুলনার জিআরপি রেলওয়ে থানা পুলিশ ফুলতলা থেকে ২১ বয়সী এক নারীকে মোবাইল চুরির অপরাধে আটক করে থানায় নিয়ে আসে ওসি ওসমান পাঠান এবং মেয়ের পরিবারকে ওসি ওসমান পাঠান ফোন করে বলেন আপনার মেয়ে ছাড়াতে চাইলে এক লাখ টাকা নিয়ে খুলনা রেলওয়ে থানায় চলে আসুন।

জবাবে মেয়ের পরিবার বলে, আমরা গরিব মানুষ, আমরা দিনে আনে দিনে খায়, আমাদের পক্ষে এতো টাকা দেওয়া সম্ভব হবে না।

জবাবে জানোয়ার ওসি ওসমান পাঠান বলেন, এক লাখ টাকা না দিলে পুলিশের ভালো করে জান আছে, কিভাবে টাকা তুলতে হয়। ওসি ওসমান পাঠান এক লাখ টাকা না পেয়ে গভীর রাতে থানার হাজতে মেয়েটিকে বিবস্ত্র করে ওড়না দিয়ে মুখ, হাত, পা বেঁধে প্রথমে ওসি ওসমান পাঠান ধর্ষণ করেন পরে আরী ৪ জন পালাক্রমে গণধর্ষণ করেন। পরে দিন ৫ বোতল ফেনসিডিল হাতে ধরিয়ে মেয়েটির বিরুদ্ধে মামলা করেন ওসি অসমান পাঠান। পরে তাকে আদালতে তুলা হল। কি নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে মেয়েটির সাথে। জানি না কি গল্প তৈরি করবেন মেয়েটির জন্য। ফেনী নুসরাত জাহান রাফির হত্যার পর থেকেই একদলপুলিশ জন্য আইনের প্রতি মানুষের বিশ্বাস উঠে গেছে।

আমাদের পুলিশ গল্প বানাতে পছন্দ করে। গল্প তৈরির সময় তারা অনেক কিছু কল্পনা করে। হিন্দি সিনেমাকেও হার মানাতে চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলা সিনেমার স্ক্রিপ্টও হয় না।

তবে মানুষের কাছে কাল্পনিক বিষয় বেশিদিন বিশ্বাসযোগ্য থাকে না। কোনো কিছু বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে বাস্তবতায় থাকতে হবে। আমাদের পুলিশের সমস্যা হলো, ক্ষমতায় থাকার সময় কেউই বাস্তবতায় থাকতে চান না। ওসি মোয়াজ্জেম, ডিআইজি মিজান, ডিআইজি প্রিজন পার্থ গোপাল বণিক ও ছিলেন না। সে সময়ের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারাও বাস্তবতায় ছিলেন না। সেই না থাকার খেসারত এখন তাদের দিতে হচ্ছে। আমাদের পুলিশ মোটা অংকের টাকা খেয়ে প্রভাবশালীদের বাচানোর জন্য একটি গল্প তৈরি করেছিলেন কিন্তু সফল হতে পারেননি। এখনো অনেক কিছু ঘটছে আমাদের চারপাশে যার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। এই গল্পকারদের মনে রাখা দরকার, এই দিন দিন না, আরও দিন আছে। এই দিন নিয়ে যাবে সেই দিনেরই কাছে। বাংলাদেশের মানুষকে বোকা মনে করার কারণ নেই। মহলবিশেষের স্বার্থ রক্ষা করা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব হতে পারে না। আপনার আজকের ভুল আগামী দিনে আপনার জন্যই সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।

ওসি মোয়াজ্জেম, ডিআইজি মিজান ও নারী কেলেঙ্কারিতে মুক্তি পাননি আর আপনি কোথার ওসি ওসমান পাঠান যে পার পেয়ে যাবেন।


লেখকঃ মোঃ রেদওয়ানুল হক মিলন

Email: redoanulhaquemilon@gmail.com

ফোন নম্বরঃ ০১৭৬৭০২২১৫০

এসএম/আওয়াজবিডি


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
https://www.awaazbd.net/author/oeazq8
mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ