মশা এবং পরিচ্ছন্নতা!

৪০০
মশা এবং পরিচ্ছন্নতা!

নিউইয়র্কে আসার পর অনেক নিয়ম কানুনের কথা শুনে অবাক হতাম। এর মধ্যে একটি ছিল নিজের বাড়ীর আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখা। বাড়ীর ফুটপাতের পাশে ঘাস ছেঁটে রাখতে হয়, স্নোর সময় তা দ্রুত পরিষ্কার করার দ্বায়িত্বও বাড়ীওয়ালার। নয়তো টিকেট খেতে হয়। টিকেট মানে হচ্ছে জরিমানা বা দন্ড। এখানে একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি ছেলে ও মেয়ে রাস্তার পাশে ঝাড়ু দিচ্ছে।

এখানে পড়ে থাকা কাগজ, ময়লা পরিষ্কার করছে। এরা হোমলেস, নিজের বাড়ী নাই। ওদের পিছনে এবং আরেকটি ছবিতে দেখানো স্থানে এরা ঘুমায়। অথচ তাদের এই থাকার জায়াগাটিকে তারা পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করছে! পরিষ্কার না করলেও কিন্তু তারা টিকেট খাবেন না। কিন্তু তাদের নিজেদের আত্মসন্তুস্টির জন্যই তারা তা করেছে।

আমাদের দেশে এরকম কোন নিয়ম নাই। তবে অনেকেই নিজের বাড়ী পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করেন। আব্বা বাড়ীর কোথাও ময়লা দেখলেই খুব রাগ হতেন। ফলে আমাদের বাড়ীতে এর চর্চা ছিল ভালভাবেই। আমিও ঘরের কোথাও বা গাড়ীর ভিতরে একটু ময়লা দেখলেই পরিষ্কারের কাজে লেগে যাই। দেশে থাকতে শুক্রবার মানেই আমার পরিচ্ছন্নতা দিবস ছিল।

বাড়ীর জানালা দিয়ে বা যেখানে সেখানে ময়লা ফেলার অভ্যাস আমাদের অস্থিগত। দুটি উঁচু ভবনের ফাঁকে তাকালে দেখা যায় শুধু ময়লা আর ময়লা! এগুলো কে পরিষ্কার করবে? সরকার আইন করলেও এই ময়লা দেখে মামলা করার মতো অবস্থা কি হবে?

এখন আমাদের দেশে গ্রামাঞ্চলেও বাসা বাড়ী থেকে ময়লা নিয়ে যায়। শুধু প্রয়োজন ময়লাগুলো বাসার এক জায়গায় জমিয়ে ময়লাওলাদের হাতে পৌঁছে দেয়া। এটা কি খুব কষ্টের! মোটেই না। কিন্তু এরজন্য সামান্য টাকা খরচ করাটাকে আমরা কষ্টের মনে করি।

এই পরিষ্কারের চর্চা না থাকায় দেশের বাইরে বাঙালি রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে দেখা যায়। আমারিকা এসেও তারা তাদের আচরণ শুদ্ধি করতে পারেন নাই। বাথ রুম নোংরা করে রাখবে। খেয়ে টিস্যু দিয়ে মুছে তা ফ্লোরেই ফেলে দিবে যদিও পাশেই গার্ভেজ ক্যান আছে!

১৯৯৬ সনে লোক নাট্যদলের সাথে হংকং গিয়েছিলাম। তখন এয়ারপোর্ট থেকে আমাদের একটি উঁচু ভবনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল খাওয়ার জন্য। বিল্ডিং এ পৌঁছে লিফটের কাছে গিয়েই বুঝলাম, এখানে আমাদের দেশী ভাই আছেন। বলেন তো কিভাবে? জ্বি, ঠিকই ধরেছেন। পানের পিক আর থুতু দেখে আমরা হাঁসাহাঁসি করছিলাম। আমাদের দেশী ভাইরা তাদের চিত্র কর্মের সাক্ষী রেখেছেন।

সম্প্রতি মন্ত্রী, সচিব এবং তারকা সম্মিলিতভাবে ঝাঁড়ু দেয়ার একটি ভিডিও এবং ছবি বেশ আলোচিত হচ্ছে। এর আগেও পরিচ্ছন্নতার একটি ভিডিও খুব ভাইরাল হয়েছিল। যেখানে দেখা গিয়েছিল ময়লা পরিষ্কার করার ভিডিও ধারণের জন্য আগে কিছু ময়লা ছিটিয়ে রাখা। ঐটার বিষয়টা ছিল ময়লা সংক্রান্ত। কিন্তু এখানে বিষয়টা হচ্ছে ডেঙ্গু। তারা যদি দেখাতো কোন বিল্ডিং এর নীচে গ্যারেজে বা কোথাও জমে থাকা পানির পাত্র তারা পরিষ্কার করছেন তাও হতো। প্রয়োজনে আগের মতো ময়লার পরিবর্তে পানি ঢেলে নিত! তারপরও একটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো। যদিও বিষয়টি তারা প্রতিকি হিসাবে দেখিয়েছেন কিন্তু এটি সর্বত্র হাঁসির খোড়াক জুগিয়েছে।

তাদের এই ঘটনা দেখে একটা জোকস মনে পড়ে গেল। আগে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকতো তখন সবার মাঝে ভাল হওয়ার বা ভাল কিছু করার প্রবণতা দেখা যেত। পার্কে বা রাস্তায় টাকা ফেলে রাখা, ঘুষ না খাওয়া ইত্যাদি নানান রকম ঘটনা দেখা যেত! দুই মাতাল সবার এই ভাল কাজের প্রবণতা দেখে নিজেরাও কিছু করার জন্য মনস্থির করলো।

১ম মাতালঃ দোস্ত সবাইতো কিছু না কিছু ভাল কাজ করছে। আমাদেরও তো কিছু করা দরকার।
২য় মাতালঃ হ, ঠিকই কইছস। চল কিছু করি।
১ম মাতালঃ হুম, আচ্ছা কি করা যায়?
২য় মাতালঃ সবাইতো সব কিছু করে, কিন্তু দেখ এত মশা অথচ কেউ কোন মশা মারে না! চল আমরা মশা মারি।

১ম মাতালঃ ভাল কথা কইছ দোস্ত। আমি তোমার কথায় একমত। চল আজকেই শুরু করি।
২য় মাতালঃ ওকে চল।

বলেই তারা দুইটা মুগুর কাঁধে করে রওনা দিল। পথে এক দোকানদার তাদের জিজ্ঞেস করলোঃ কিরে রাইতের বেলা এই মুগুর কান্দে কই যাছ?

১ম মাতালঃ ভাই যুদ্ধে যাই।

দোকানদারঃ যুদ্ধে!

২য় মাতালঃ হ ভাই। মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধে। ঢাকা শহরে এত মশা অথচ কেউ মশা মারে না।

১ম মাতালঃ তাই জাতির এই বিপদে আমরা যুদ্ধে নামছি। দোয়া কইরেন।

বলে তারা হাঁটতে হাঁটতে একটা ডাষ্টবিনের কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই সোডিয়াম লাইটের ঝলকানিতে দেখে অনেক মশা। এক মাতাল নীচু হয়ে মশা খোঁজে আর তখন অপর মাতাল দেখে তার মাথার উপর বিশাল মশার ঝাঁক। যেই দেখা অমনি মুগুর দিয়ে মারলো এক বাড়ি। মশা মরলো গুটি কয়েক সাথে ঐ মাতালো।

যুদ্ধ শেষ করে মুগুর কাঁধে নিয়ে মাতালটি বীরের বেশে ফিরে আসছিল। তখন ঐ দোকানদার তাকে ডেকে প্রশ্ন করেঃ "কিরে তগো যুদ্ধ কেমন চলতাছে?"

তখন মাতাল বলেঃ "ভাই যুদ্ধ চলতাছে মানে! তুমুল যুদ্ধ। ওগো মরছে গোটা বিশেক আর আমগো মাত্র একটা!"


আনিসুর রহমান দিপু
আনিসুর রহমান দিপু
https://www.awaazbd.net/author
mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ