দুদকের জালে পার্থ গোপাল বণিকের ৮০ লাখ টাকা, সরকারি খরচে সিইসির হজ্ব গমন

অনলাইন ডেস্ক
মোঃ রেদওয়ানুল হক মিলন
০২ আগস্ট ২০১৯, ০৭:৫৯ অপরাহ্ণ
৩১৫
রেদওয়ানুল হক মিলন

বেশ কয়েকদিন ধরে মন ভালো নেই কেমন জানি ছটফট লাগছে। একদিকে বন্যায় দেশ ভাসছে বিপদের সময় সবাই প্রিয়জনকে কাছে পেতে চাই। যারা ভুক্তভোগী তারা তাদের কষ্ট তুলে ধরতে পারে না। আমরা সবাই কষ্ট পাই। কিন্তু সেই কষ্ট প্রকাশ করতে পারি না। বানভাসি মানুষের দুখ-কষ্ট বলার ক্ষমতা নেই। তবুও বিপদের সময় প্রিয়জনকে সবাই কাছে পেতে চাই। অন্যদিকে ডেঙ্গুতে দেশ শেষ হয়ে যাচ্ছে। ডেঙ্গু যে কি জ্বালা যার হয়েছে সে ভালো বুঝে। যার হয়নি শত চেষ্টা করেও সে বুঝবে না বা বোঝানো যাবে না। আমরা এমন এক দেশে বসবাস করি যেখানে মহামান্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দিতে হচ্ছে ডেঙ্গু প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করতে তার পরেও তেমন কোন সাড়া নেই। আমাদের দুই নগর পিতা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ডাক্তাররাও মারা যাচ্ছে। যারা চিকিৎসা করবেন তারাই যদি মারা যান তাহলে কেমন হয়।

রবিবার সিলেটের ডিআইজি প্রিজন পার্থ গোপাল বণিক এই নামটি খবরের কাগজে এখন বড় আকারের শিরোনাম। তিনি ৮০ লাখ টাকাসহ দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের জালে আটক হন।

বাবা পার্থ গোপাল বণিক তুমি কি জানতে না চোরের ১০দিন তো গেরস্তের একদিন। বাবা পার্থ গোপাল বণিক তোমার বুদ্ধিমতি সুন্দরী বউ একজন চিকিৎসক হয়েও রতন মনি সাহা পাশের ভবনে ব্যাগ ভর্তি ৫০ লাখ টাকা ফেলে দিলেন। তা ও আবার  দুদকের দল কে দরজায় দাড় করিয়ে। দুদকের অভিযান পরিচালনাকারী দল ব্যাগ দুটি কুড়িয়ে এনে খুলে দেখেন ৫০ লাখ টাকা আর ঘরের ভিতরে ছিল ৩০ লাখ টাকা মোট টাকা উদ্ধার করা হয় ৮০ টাকা।

দুদকের প্রশ্নের জবাবে বাবা পার্থ গোপাল বণিক বলেন ৫০ লাখ টাকা আমার ১৮ বছরের চাকুরী জীবনের সঞ্চয়ের টাকা আর বাকি ৩০ লাখ আমার শ্বাশুড়ি দিয়েছে।

পার্থ গোপাল বণিক এত অভাগা যে সত্য আড়াল করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর মিথ্যাত আশ্রয় নিতে হয়েছে তাকে।

বাবা পার্থ গোপাল তুমি কোথাকার রাজকন্যা বিয়ে করেছিলে যে শ্বাশুড়ি তোমাকে ৩০ লাখ টাকা দিয়েছে।

তোমার শ্যালিকা কোন শিল্পপতির বউ যে শ্বাশুড়ির নামে ভূতের গলি ফ্ল্যাটটি কিনে দিয়েছে। আমার সন্দেহ হয় বড় বড় শিল্পপতিরা এত টাকা ক্যাশ রাখে কিনা।

২০১২ সালের এপ্রিলে রেলের কালো বিড়াল এক মধ্য রাতে বিজিবির গেটে ধরা পড়েছিল তখনকার রেলপথ মন্ত্রী প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের এপিএস ওমর ফারুক। আলোচনা-সমালচনার ঝড় উঠেছিল। যেখানে তৎকালীন রেলপথ মন্ত্রী বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত রেহাই পাননি সেখানে তুমি কোথাকার পার্থ গোপাল বণিক যে পার পেয়ে যাবে। রেলপথ কি এখন দুর্নীতি মুক্ত?

রাজনীতিবিদরা গালি খান দেশের আমলারা কি ধোয়া তুলসীপাতা তারা দুর্নীতি করে না। এবার সরকারি ভাবে প্রায় ৪০০শত জনের মত সরকারি খরচে হজ্বে পাঠানো হয়েছে। যারা অক্ষম আর্থিকভাবে অসহায় শুধু তারাই যেতে পারবে হজ্বে। কিন্তু অনেক বিত্তবান, অর্থশালী, সম্পদশালীরাও যাচ্ছে এমনিকি সরকারি খরচে প্রধান নির্বাচন কমিশন কে এম নুরুল হুদা ও যাচ্ছেন। শুনেছি ওনার সাথে আরো তিন জন হজ্বে যাচ্ছেন।

সিইসির হজ্বে অনিয়ম হচ্ছে নাকি তা দেখতে সেখানে যাচ্ছেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল সিইসি কে এম নুরুল হুদার দায়িত্ব নির্বাচনের অনিয়ম ও ভোটার তালিকা দেখার হজ্বের নিয়ম নয়। এটার দেখার জন্য আমাদের স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন রয়েছে। তারা দেখবেন আপনি নন মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।

সাধারণ মানুষ আলেম ওলামা সরকারি কর্মচারীরা হজে গেলে মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বা অন্যরা  হজ্বে গমন গ্রহণযোগ্য নয়।

মাদারীপুরের যুগ্মসচীব সবুর মন্ডল ভিআইপি হিসেবে তিন ঘন্টা ফেরি ডিসি ওয়াহিদুল ইসলাম কে দিয়ে আটকে দেওয়ায় অসুস্থ কিশোর তিতাস অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে মাঝ নদীতে মুত্যু বরন করেন। আমাদের সংবিধান যেখানে বলে জনগন হল সকল ক্ষমতার মালিক। আমলারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে জনগনের সেবা করবেন। সেখানে একদল আমলা ডিসি নিজেদেরকে জমিদার মনে করেন। যুগ্মসচীব থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সবাই কেন ভিআইপি। কারা ভিআইপি আর কারা ভিআইপি নয় এটা সরকারকে এখনেই জানানো উচিৎ। আর কিশোর তিতাস হত্যার জন কারা দায়ী এটা বের করে শাস্তি দেওয়া হক বা চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হক।

আমি বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা ও মিন্নিকে নিয়ে অনেক কথা বলেছি ও লেখেছি। আর বলতে বা লিখতে চাই না। এবং মিন্নির রিমান্ড নিয়ে ও কিছু বলতে চাই না। আবার মিন্নি ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলতে চাই না। সাক্ষীকে আসামি করার জন্য প্রথমে ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, তারপর রিমান্ড, আইনজীবীকে আদালতে দাঁড়াতে না দেওয়া। আমাদের পুলিশ গল্প বানাতে পছন্দ করে। গল্প তৈরির সময় তারা অনেক কিছু কল্পনা করে। হিন্দি সিনেমাকেও হার মানাতে চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলা সিনেমার স্ক্রিপ্টও হয় না।

তবে মানুষের কাছে কাল্পনিক বিষয় বেশিদিন বিশ্বাসযোগ্য থাকে না। কোনো কিছু বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে বাস্তবতায় থাকতে হবে। সমস্যা হলো, ক্ষমতায় থাকার সময় কেউই বাস্তবতায় থাকতে চান না। এখনো অনেক কিছু ঘটছে আমাদের চারপাশে যার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। এই গল্পকারদের মনে রাখা দরকার, এই দিন দিন না, আরও দিন আছে/এই দিন নিয়ে যাবে সেই দিনেরই কাছে। বাংলাদেশের মানুষকে বোকা মনে করার কারণ নেই। মহলবিশেষের স্বার্থ রক্ষা করা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব হতে পারে না। আপনার আজকের ভুল আগামী দিনে আপনার জন্যই সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।

লেখকঃ মোঃ রেদওয়ানুল হক মিলন।

Email: redoanulhaquemilon@gmail.com

ফোন নম্বরঃ ০১৭৬৭০২২১৫০

এসএম/ আওয়াজবিডি


mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ