অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদ

৬৪৬
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদ

এই জনপদের মানুষদের চরিত্রের মধ্যে বিভিন্ন দূর্বলতা যেমন আছে, ঠিক তেমনি আছে মানবিক গুনাবলীও! এই সব গুনাবলীর মধ্যে অসম্প্রদায়িকতা এই ভূখন্ডের মানুষদের মধ্যে আবহমান কাল থেকেই বিরাজমান!

এই সময়ে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোতে যখন সাম্প্রদায়িকতার আগুনে পুড়ছে মানুষ এবং মানবতা! ঠিক তখনিই অস্প্রদায়িকতার মানবিক মশাল খুব ভালোভাবে আকড়ে ধরে আছেন এই বঙ্গদেশের সন্তানেরা; যা পুরো পৃথিবীর জন্য অনুকরনীয় এক মডেল। তাই এখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা তারা তাদের জীবন ও জীবিকা খুব সম্মানের সাথেই চালিয়ে যাচ্ছে কোন রকম ধর্মীয় বৈষম্য ছাড়াই!

তারপরও মাঝে মাঝে যে র্দুঘটনা ঘটছে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষদের সাথে;সেগুলো একেবারেই বিচ্ছিন্ন এবং এই সব ঘটনার সাথে ধর্মীয় কোন বিদ্বেষ কোনভাবেই জড়িত থাকে না! এই ঘটনা গুলো ঘটে বাংলাদেশের অনন্য সাধারন ঘটনাগুলোর মতোই! যে গুলোর জন্য বাংলাদেশের আইনের শাসেনর অভাব, দলবাজ এবং অপেশাদারি প্রশাসনের কর্মকর্তা, ব্যাপক মাত্রায় দূর্নীতি, জবাবদিহীনতা এবং গনতন্ত্রহীনতা দায়ী!বর্তমান বাস্তবতায়, ক্ষেত্র বিশেষ বাংলাদেশ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা সরকারি চাকরিসহ অনন্যা জায়গায় প্রাপ্য অধিকারের চেয়ে একটু বেশীই পাচ্ছেন।

যাই হোক, এটা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক না নেতিবাচক তা হয়তো সময়ই একদিন বলে দিবে। মোটকথা, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যলঘুদের জন্য যে সামাজিক নিরাপত্তা এবং একে- অন্যর প্রতি যে শ্রদ্বা সম্মান রয়েছে তা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের এবং বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত, মিয়ানমারসহ সারা বিশ্বের জন্য তা অনুকরনীয়! বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি এমন উদার দৃষ্টিভঙ্গি মূলত গড়ে উঠেছে ইসলামের মৌল মানবিক চেতনা ও এই জনপদের শত শত বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে।

প্রবিত্র ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা যে কতো ক্ষুরধার তা প্রবিত্র আল-কোরআনের কিছু আয়তেই স্পষ্ট করা হয়েছে।
মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআন মাজীদে বলেন যে, ‘তোমাদের ধর্ম তোমাদের কাছে আর আমার ধর্ম আমার কাছে। , (সূরা: কাফিরূন ১০৯, আয়াত: ৬)

এ সম্পর্কে অন্যত্র এসেছে যে, ‘আমাদের কর্ম আমাদের কাছে আর তোমাদের কর্ম তোমাদের কাছে। আমাদের ও তোমাদের মাঝে কোনো বিবাদ নেই। আল্লাহই আমাদের একত্র করবেন আর আমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন তারই কাছে। ’ (সূরা: শুরা ৪২, আয়াত:১৫)

আল কোরআনের বাকারাহ ও রুম সূরায় এসেছে যে, ‘তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত করো। ’ (সূরা: রুম ৩০, আয়াত ন: ৩০ )

‘ধর্মে কোনো জোরজবরদস্তি নেই্। ’ (সূরা: বাকারাহ ২, আয়াত: ২৫৬)

‘তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করলে পৃথিবীতে যারা আছে, তারা সকলেই ইমান আনয়ন করত। তবে কি তুমি বিশ্বাসী হওয়ার জন্য মানুষের ওপর জবরদস্তি করবে?’ (সূরা: ইউনূস ১০, আয়াত: ৯৯)

যার কারনে একজন মুসলিম যতো বেশী ধর্মপ্রাণ হয়ে উঠে সে ততো বেশীই অসাম্প্রদায়িক একজন ব্যাক্তি হয়ে উঠে। কারন, পৃথিবীর সবচেয়ে সত্য ও সুন্দর আহব্বানের অর্থ্যা প্রবিত্র ইসলামের মধ্যে কোন ঘৃনা চর্চা করার সুযোগ রাখা হয় নি। এই সব কারনেই বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িকতার বাতি জ্বলমলে!

গত কয়েকদিন আগে প্রিয়া সাহা নামে বাংলাদেশের এক সাম্প্রদায়িক সংগঠনের নেত্রী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে যে ভয়ংকর মিথ্যাচার করেছেন তা নিয়ে বাংলাদেশে এখন দেখা দিয়েছে তুমুল উত্তেজনা। প্রিয়া সাহার এই মিথ্যাচার বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক সুনামের উপর একটা বড় ধরনের আঘাত হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রিয়া সাহার দেশের ধর্মীয় সংখ্যালুঘুর উপর নির্যাতন, গুম ও দেশত্যাগ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যে ভয়ানক মিথ্যা অভিযোগ করেছেন তা শুনে দেশের সকল শ্রেণি -পেশার এবং সামাজিক - রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মানুষ যারপরনাই বিস্মিত ও দূঃখ পেয়েছেন।

এই ইস্যুকে প্রথমে নিছক প্রিয়া সাহা, র ব্যাক্তিগত মত হিসাবে দেখা হলেও সময়ের সাথে এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাও। বিভিন্ন সমীকরণ মিলিয়ে এখন খুব সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে যে, ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগের পিছনে ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির একটা প্রচ্ছন্ন ষড়যন্ত্র রয়েছে। কারন, তারা চায় বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং এটাকে পুজি করে ভারতে চলমান মুসলমান নির্যাতন আরও তীব্র করা; সাথে সাথে ভারতের সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তি বিজেপির সপ্নের রাম রাজত্ব ভারতে কায়েম করতে।

বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের নানামুখী এই ষড়যন্ত্রের জাল এখন ভালো করে বুঝতে হবে বাংলাদেশের জনগনকে। ভারত যে এখন বাংলাদেশের অগ্রগতিতে অন্যতম অন্তরায় তা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। ভারতে যেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা(মুসলমানরা) প্রতিনিয়ত ধর্মের কারনে খুন হচ্ছেন;সেখানে বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী দেশ হয়েও তার নিজেদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ঠিকয়ে রাখছে অত্যন্ত সফলতার সাথে। সেই শান্ত পরিবেশকে হঠাৎ করে ভারত তার এদেশীয় কতিপয় দালাল দিয়ে নষ্ট করতে চায়। যাতে পুরো দক্ষিন এশিয়ায় একটা সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়;এবং সেখান থেকে তারা যাতে নিজেদের ঘৃন্য ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে পারে।

কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে বদ্বপরিকর তা নিশ্চয় ভারত বুঝতে পারবে যদি তারা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বর্তমান সমাজ কাঠামো এবং অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে পারে।




mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ