একটি ধর্ষণের উপত্যকা;সমাধান কোথায়?

৪৯২
একটি ধর্ষণের উপত্যকা ;সমাধান কোথায়?

রাষ্ট্র একটা বিষয়ে নড়েচড়ে বসা উচিত। খুব সেনসিটিভ এই ইস্যু নিয়ে মানুষ সব সময় কথাবার্তা বলে আসছে কিন্তু বাস্তবে এর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে এই অবস্থা যে আরো নাজুক হয়ে দাঁড়াবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অবস্থা যদি খুব বেগতিক হয় তখন ইনজেকশন দিয়েও কোন কাজ হবে না।

এইরকম একটা বিশ্রী অসুস্থ একটা জাতি নিয়ে আপনারা আগাবেন কেমনে। এরা নিজের মেয়েকেও রেইপ করে। এরা নিজের পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে বাচ্চা মেয়ে কিংবা ৯ মাসের বাচ্চা শিশুটির সাথে রেইপ করতেও এদের মন বাধা দেয় না। বিশ্বাস করুন, এসব নিয়ে লিখতে মন চায় না। এইরকম একটা পশুর চেয়েও অধম মেন্টালিটি মানুষ দিয়ে কিভাবে দেশ ঠিকে থাকবে আমার কোন রকম বিশ্বাস হয় না।

কার উদাহরণ দিবো আর কার উদাহরণ দিবো না। প্রতিটি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এইসব পশু ঢুকে গেছে। এইসব পশুর ছোবল থেকে দেশের প্রতিটি বোনদের বাঁচানোটাও একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের কোন জায়গায় বাচ্চা মেয়ে থেকে শুরু করে ১০০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত নিরাপদ নয়।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে রেইপ হয় আবার মাদরাসায় রেইপ হয়। আজকাল মসজিদের ইমামরাও রেইপ করার সিরিয়ালে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। কোন সেক্টর রেইপ ছাড়া এইটা এখন খুজে বের করা একটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। দেশের উপসচিব থেকে শুরু করে শিক্ষক পর্যন্ত অনেকেই রেইপ করার নেশায় ব্যস্ত।

এটা এভাবে চলতে দেওয়া যায় না!
সমাধান কি! কি করতে হবে।

১.শুনতে খারাপ লাগবে কিন্তু সত্য দেশের বেশিরভাগ মানুষ পর্ণ দেখে। বাংলাদেশে পর্ণ সাইট অতি তাড়াতাড়ি বন্ধ করতে হবে।

২.দেশের আনাচে কানাচে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের নাম করে যেসব নোংরা মানুষ নস্টামি করে যাচ্চে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩.আপনার ভাই বা বোন কার সাথে মিশছে কি করছে কোথায় যাচ্ছে এসব নিয়ে অতি তাড়াতাড়ি সচেতন হউন।

৪.আপনার সন্তানের হাতে মোবাইল বা ট্যাব দেওয়া বন্ধ করুন। অন্তত ১৮ বছরের আগে অবাধে মোবাইল বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখুন।

৫.প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা আপনার ভাই বা বোন কিংবা সন্তানের হাতে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৬.আপনার বাচ্চা মেয়ে কোথায় যাচ্ছে কেউ কি তার দিকে খারাপ নজর দিচ্ছে কি না সে ব্যাপারে ও সচেতন হউন।

৭.বাচ্চাদের একা কোন জায়গায় দিবেন না। চারিপাশে প্রচুর হায়েনা ছড়িয়ে আছে। যেকোনো সময় যে কাউকে এরা আক্রমণ করতে পারে।

৮.আপনার অনুপস্থিতিতে আপনার সন্তান কি করছে সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন খোঁজ নিন।

৯.অনেকেই এটা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান কিন্তু এটা খুব সেনসিটিভ ইস্যু! অতি মাত্রায় ফ্রি মিক্সিং ছেলেমেয়েদের অনেক সময় নোংরা কাজ করতে সাহস যোগায়। এসব ব্যাপারেও সচেতন হওয়া উচিত।

১০.আপনার সন্তানের বা ভাই বোনের স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি, মাদরাসা তার জন্য নিরাপদ কি না সেসব বিষয়ে ভালো করে খোঁজ নেওয়া এখন অতি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেসব বিষয়ে খোজ নিন।

১১.রাস্তাঘাটে বা পাড়া মহল্লায় কোন মেয়েকে কেউ টিজ করলে সাথে সাথে প্রতিবাদ করুন। স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করুন।

১২.ধর্ম মেনে চলুন। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলুন।

১৩.আপনার সন্তান কিংবা ভাই বোনের বিয়ের বয়স হলেই বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। বিয়েতে লেইট করার কোন মানেই হয় না। তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়াই উত্তম।

১৩.যারা ধর্ষণ করে পার পেয়ে যায় এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হউন। এদের বিচারের কাঠগড়ায় আনা রাস্ট্রীয় দায়িত্ব। রাস্ট্র এদের ফাঁসি কার্যকর করার হুকুম দান করুন।

এই রাস্ট্র আমাদের। সুখী শান্তিতে বসবাস করা আমাদের সবার'ই কাম্য। কিন্তু যারা এরকম এহেন কাজের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করুন। যারা ধর্ষণ করে এদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করুন। এদের বিরুদ্ধে যা যা করা যায় তাই করুন।

আগামী প্রজন্মের জন্য একটা সুন্দর মন মানসিকতা সম্পন্ন দেশ রেখে যাবো এটাই হউক আমাদের ভিশন।

লেখক: শিক্ষার্থী ও প্রাবন্ধিক


mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ