ভোটের ইতিহাস জানা আছে, সাধারণ মানুষকে মূল্যায়ন করুন!

বেদনা

আমার বাবা বলতেন, তুমি ভালো জগৎ ভালো। এখন আর তা নেই। এখন ভালো থাকলে বা ভালো থাকাকে এক শ্রেনীর মানুষ দুর্বল মনে করে। এখন খারাপ কাজ করে মানুষ গর্বিত হয়। একটা সময় মানুষ চেনা যেত বোঝা যেত, এখন আর মানুষ চেনা বা বোঝা বড়ই দায়। মানুষ এখন শর্টকাট পথে উপরে উঠতে চায়। আর কিছু কিছু মানুষ রাজনীতির আড়ালে খুব দ্রুত সম্পদশালী হতে চায় আর অপকর্ম করে অবাধে।

ধর্ষণ হত্যা মাদক চোরাচালান বন্ধ হচ্ছে না। বরং দিন দিন বেড়েই চলছে। হাইব্রিড নেতাদের দাপট বাড়ছে কিছুতেই কমছে না দুর্নীতি। এখনো খাদ্যে ভেজাল মেশাচ্ছে কিছু নির্লজ্জ অসাধু ব্যবসায়ী। নামাদামি হোটেলগুলোতে খাবার কিনে বা খাবার খেয়েও স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না। সবখানে ভেজাল আর ভেজাল খাবারে ভেজাল, রাজনীতিতে ভেজাল, মানুষের নীতিতে ভেজাল, ভেজালের শেষ নেই দেখছি। এই সমাজে অর্থলোভে মানুষ মানুষকে খুন করছে। আবার অন্যায় করে কিছু মানুষ বুক ফুলিয়ে, সিনা উচু করে সমাজে চলাফেলা করছে। এই নির্লজ্জ বেহায়া অমানুষদের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি। নৈতিকতার অভাবে আমাদের তরুণ্য আজ বিপদগামী। কিন্তু এভাবে আর কতদিন?

এই অসুস্থ সমাজ থেকে তারুণ্যকে ফিরিয়ে আনতে হবে। সমাজকে বাঁচাতে হবে, সামাজিক সচেনতা বাড়াতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে নীতি আর নৈতিকতার জায়গাগুলো সকল শ্রেণীর মানুষের ঘুম ভাঙিয়ে জাগিয়ে তুলতে হবে। কেউ অন্যায় করলে প্রতিবাদী হয়ে উঠতে হবে। অন্যায়কে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। বরং কেউ অন্যায় করলে সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে।

মাস দুয়েক আগে এক চেয়ারম্যানের সাথে আমার দেখা। তিনি কথায় কথায় বলেন, এখন চেয়ারম্যান হওয়া খুবই কঠিন। আমি জানতে চাইলাম, কেন ভাই আর কোন দল থেকে? তিনি উত্তরে বললেন, যে কোন দল থেকে। তবে হ্যাঁ, তিনি সত্যিই বলেছেন। এখন চেয়ারম্যান হওয়া খুবই কঠিন কারণ এখন আর জনগণকে ভোট দিতে হয় না। কঠিন তো হবেই। এ নিয়ে গর্ব করার কিছুই নেই।

আমার বাবা বলতেন, অহংকার মানুষেরা চার-পাশের সর্বনাশ বয়ে আনে।

চেয়ারম্যান সাহেব আমার কথায় খুব বেশি একটা খুশি হতে পারলেন না, আমি ওনার চেহারার দিকে তাকিয়ে সেটা বুঝতে পারলাম। এখন সবাই তোয়াজ পছন্দ করে, আমি তো ভাই তোয়াজ পছন্দ করি না।

আজকাল যেদিকে তাকাই সেদিকে ক্ষমতায় থাকা মানুষগুলোর দাম্ভিক চেহারাটা দেখি। আমাদের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব গুলো সস্তা হয়ে ওঠায়, আত্নসমালোচনা করার চিন্তাও আর কেউ করে না। দয়াময় আল্লাহ তায়ালা আবার দাম্ভিক মানুষকে পছন্দ করেন না। কিন্তু কে শুনে কার কথা। সবকিছু কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে। আমাদের চারপাশে ভুড়ি ভুড়ি সাংবাদিক, যে দিকে তাকায় সেদিকে তাদের চোখে পড়ে। ক’জন সাংবাদিক তাঁর নীতি- নৈতিকতা নিয়ে কাজ করে? সাংবাদিকতার মাঝেও এখন একধরনের ভেজাল ঢুকে গেছে। এই সব ভেজাল সাংবাদিকদের জন্যই মিডিয়া শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতোগুলো টেলিভিশন, পত্রিকা জনগণ কয়টা দেখে বা পড়ে। আজকাল খবরের কাগজে পড়ার মতো কিছুই থাকে, একঘেয়েমি সংবাদ, নানা বেহুদা প্রশংসা, তবুও পড়তে হয়।

ভাই চেয়ারম্যান, আমাদের সমাজ দিনে দিনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পেশাদারিত্ব তাদের দায়িত্ব হারিয়েছে। আজ আমাদের মিডিয়া তার দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করছে না বলেই একজন চেয়ারম্যান বলছেন এখন চেয়ারম্যান হওয়া খুবই কঠিন। আরে ভাই, কঠিনের কিছু নেই। ২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচন দেশবাসী দেখেছে কিভাবে ভোট হয়েছে।

এভাবে অহংকার করবেন না, বরং মানুষের মন জয় করুন আর ভুলিয়ে দিন ভোট না দিতে পারার বেদনা। জনগণের ভোট দরকার হয় না বলে চেয়ারম্যান হওয়ার পর আর কেউ জনগণ নিয়ে ভাবে না বা চিন্তা করে না। আর মানুষের মন জয় করার ও চেষ্ট করে না।

স্বপ্নের সমুদ্রে নৌকা চালান আর অহংকার করে বলেন এখন চেয়ারম্যান হওয়া খুবই কঠিন। সাধারণ মানুষের রাজনীতির কথা তো আপনারা ভুলেই গেছেন। মাঠে ময়দানে কাজ করার দরকার নেই, কর্মীদেরও দরকার নেই। এইসব চিন্তা বাদ দেন। ৩০ শে ডিসেম্বর ভোটের ইতিহাস আমাদের জানা আছে। সাধারণ মানুষকে মূল্যায়ন করুন, টাকার জোরে সবকিছু হয়না। মাঠে-ময়দানে শক্ত কর্মী না থাকলে একদিন না একদিন খেসারত দিতে হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এখন তার খেসারত দিচ্ছে। বিএনপি সর্বশেষ সংসদে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে ভুলের পথে অবস্থান করলেই শেষমেশ ঠিকই সংসদে গেলেন। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর না যাওয়ায় দলটি আরো একটি বড় ভুল করেছে। আবার ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে এনে বিএনপি তাদের সঠিক সিদ্ধান্তের পরিচয় দিয়েছে। তবে মির্জা ফখরুলকে সংসদে আসা উচিৎ ছিল। তাতে বিএনপির মনোবল চাঙ্গা হতো। তারা তাদের দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত কারাবন্দী নেত্রীর মুক্তির জন্য সংসদে আরো জোড়ালোভাবে কথা বলতে পারতো। কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে দলটির কোন উদ্দেশ্যই দেখছি না। বিএনপি নামক দলটি জানেই না কখন কোন কাজ করতে হবে। তাদের নেত্রীর জন্য দলটি আজ অবধি কোন কর্মসূচী দিতে পারেনি। আগামী সাড়ে ৪ বছরেও দিতে পারবে কিনা তা বলা খুবই কষ্টকর। বিএনপির রাজনীতি কোথয় গিয়ে দাঁড়াবে তা কেউ জানে না।

আমার একজন খুব প্রিয় মানুষ প্রায় আমার খোঁজ খবর নেয়। উনি একজন প্রফেসর। নামটা নাইবা বললাম। তিনি আমার ভালোমন্দ খোঁজ রাখেন। খুব ভালো লাগে ওনাকে। প্রিয় মানুষদের একজন। দুর্ভাগ্য যে, স্যারের কোন মেয়ে নেই। থাকলে মেয়েকে বিয়ে করে ওনাকে শ্বশুড় বানাতাম। সেই সূত্রে যদি বাবা ডাকা যেত। এখনো ডাকা যায়, তবে তখন আদর স্নেহটা একটু বেশি পাওয়া যেত। জামাই বলে কথা। আদর স্নেহ তো পাবই এটা আবার বলার লাগে!

যাকগে সে কথা। আসল কথায় ফিরে আসি। প্রফেসর স্যার আমাকে একদিন ফোন করে বলেন, রেদওয়ান তোমার লেখা ভালো হচ্ছে। এভাবে সাহস করে কতদিন লেখতে পারবে?

উত্তরে আমি বললাম, স্যার এখন না পারলে কখন বলবো স্যার? আমাকে দু’আ দিলেন। বললেন, সাহস করে লিখে যাও। সাহায্য লাগলে আমাকে বলিও। উত্তরে বললাম, ধন্যবাদ স্যার আপনাকে আমার পাশে থাকার জন্য। এই বয়সে অনেক প্রিয় মানুষকে হারিয়েছি। জানি না আগামীতে কি হবে বা কি অপেক্ষা করছে আমার জন্য। মানুষের এতো লোভ-লালসা কি আছে জানি না। দুদিনের এই দুনিয়া আজ আছি তো কাল নেই। হুটহাট করে সবাই চলে যাচ্ছে।

প্রিয়জনদের মুত্যু খুব কাছ থেকে দেখেছি সেই শিশু বয়স থেকে আমার জীবনের প্রথম মৃত্যুর খবর আমার মা। কিন্তু মৃত্যুর কষ্ট অনুভবের বয়স তখন আমার হয়নি, আমি জীবনে প্রথম উপলব্ধি করি মৃত্যুশোকের তীব্র যন্ত্রণা।   কষ্টের সমুদ্রে সাতার কেটে আমার বেড়ে ওঠা অল্প বয়সে মা, বাবা হারিয়ে আজ যে আমি দিশেহারা মানুষ এভাবে চলে যায়, একটিবার বলেও যায় না। একটি বারও  ভাবে না তার তার এই হতভাগা সন্তানটি কি ভাবে বেঁচে থাকবে আর কাকে নিয়ে বেঁচে থাকবে একটি বারের জন্য ও ভাবে না। অনেক দুখঃ-বেদনা নিয়ে আমরা বেঁচে থাকি। অন্যায়কে বলার চেষ্টা করি অন্যায়। তাতে কেউ খুশি হয় আবার কেউ খুশি হয়না। আমি তো ভাই খারাপকে ভালো বলতে পারি না, খারাপকে খারাপই বলি। কাউকে খুশি করার জন্য মন্দকে ভালো বলতে পারবো- আমার আদর্শ পিতা-মাতা তো আমাকে সে শিক্ষা দেয়নি। সমাজের ভয়ঙ্কর খারাপ মানুষগুলোর বিরুদ্ধে দেশের সরকার ব্যবস্থা নেবে। খুন-খারাপি ধর্ষণ বন্ধ হয়ে ফিরে আসবে আইনের শাসন। আর অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে তরুণ সমাজ। এই কামনা করে আজকের মতো এখানেই কলম রাখলাম। আল্লাহ্ হাফেজ।

লেখকঃ মোঃ রেদওয়ানুল হোক মিলন

Email: redoanulhaquemilon@gmail.com

এস, এম/ আওয়াজবিডি


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
https://www.awaazbd.net/author/oeazq8
mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ