সংসদ হচ্ছে জাতির ভাগ্য নির্ধারণের পবিত্র স্থান, বাউলি গানের মঞ্চ নয় !

অনলাইন ডেস্ক
মোঃ রেদওয়ানুল হক মিলন
০১ জুলাই ২০১৯, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
৪৩৬৪
পবিত্র স্থান,

২০১৪ সাল থেকে বিএনপি ভুলের রাজনীতিতে পথহাঁটা এখানে বড় ভুলটি করেছে তারা। পর্যবেক্ষকদের মতে সংসদেই যখন বিএনপি গেল, তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সম্মানিত, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সংসদে না পাঠিয়ে কেনই বা তার শূন্য আসনে উপনির্বাচনে জি এম সিরাজকে বিজয়ী করে এনেছে? অন্যদিকে আবার সংরক্ষিত (মহিলা) আসনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে সংসদে এনে যে সঠিক সিদ্ধান্তের পরিচয় দিয়েছে, তেমনি মির্জা ফখরুলকে সংসদে না পাঠিয়ে তাদের দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।

সংসদে বিরোধী দলের নেতা ৬৪ হাজার গ্রাম বাংলার পল্লিবন্ধু আলহাজ্ব হুসেন মোহাম্মাদ এরশাদ অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী। জাতীয় পার্টি সংসদে এসে বিরোধী দলের আসন গ্রহণ করায়, জনগণের আকর্ষণ ও আগ্রহের জায়গায় তেমন নেই। সেখানে ঐক্যফ্রন্টের হাতে গোনা সাতজন সদস্য কথা বললে সংসদ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিতর্কের ঢেউ খেলে যায়। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্য সরকারি দলের এমপিদের প্রতিবাদের মুখে যেখানে ঝড় তুলছে, সেখানে বিএনপির সম্মানিত, মহাসচীব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন দাঁড়িয়ে কথা বলতেন, তখন সরকারি দল যেমন তার বক্তব্য গুরুত্বসহকারে মনোযোগ দিয়ে শুনত, তেমনি গণমাধ্যমও লুফে নিত, জনগণের মধ্যেও তার প্রভাব পড়ত।

সাবেক স্পিকার (মহামান্য রাষ্ট্রপতি) আবদুল হামিদ সংসদ মাতিয়েই রাখতেন না, বরং সবাইকে আলোচনার সুযোগ দিয়ে সংসদ প্রাণবন্ত করে রাখতেন। উচ্চশিক্ষিত বিদুষী নারী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে স্পিকার নির্বাচিত করে মুজিব কন্যা, জাতির মমতাময়ী মা আন্তর্জাতিক নেত্রী, সংসদ নেতা, টানা তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন, সংসদ পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি তার প্রমাণ রেখেছেন। সংসদে সবাইকে কথা বলার সুযোগ দিতে একজন হৃদয়বান উদার স্পিকার হিসেবে ইতিহাসে খাতায়  স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তার নাম লিখিয়েছেন।

থাকুক রাজনীতি কথা বলছিলাম ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়াকে নিয়ে।

যতটুকু পড়েছি জেনেছি, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া আলহাজ্ব হুসেন মোহাম্মাদ এরশাদের জাতীয় পার্টির মন্ত্রী থেকে এমপি হয়ে সংসদে এসেছিলেন। আলহাজ্ব হুসেন মোহাম্মাদ এরশাদের জাতীয় পার্টির ভাঙনে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর পাল্লায় উঠেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নৌকায় চড়ে এ সংসদে এলে হৃদয়বান মমতাময়ী মা শেখ হাসিনা তাকে ডেপুটি স্পিকারের আসনে বসিয়েছেন। রাজনীতির পাঠ্যবই পড়ে যতটুকু জ্ঞানর্জন করেছি এবং জানতে পেরেছি তাঁর ভিত্তিতেই বলছি, বিএনপির অনেক নেতা আছে যারা সংসদ চলাকালে মাননীয় স্পিকারের দূষ্টি-আকর্ষণ করে স্পিকারকে বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ করেছে সংসদে। তবুও মাননীয় স্পিকার তাদেরকে কথা বলার সুযোগ করে দিতেন। তবে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার ভাগ্য খুবই ভালো যে, ওনারা বেঁচে নেই, থাকলে হয়তো ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়াকে বে-মজা’ বলতে দ্বিধাবোধ করতেন না।

এমনিতেই সংসদে বিরোধী দল নেই বললে চলে।   যারা আছে তারা আসলেই বিরোধী দল নাকি সরকারী দল বোঝা বড় দায়। সংসদ টিভির সুবাদে তা দেখতে পায়। জাতির মমতাময়ী মা শেখ হাসিনা যেখানে চান বিরোধী দলে যে কয়জন আছে তারা কথা বলুক, সরকারের সমালোচনা করুক। কিন্তু সংসদ সদস্যদের কথা বলতে দিতে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী যতটা উদার ডেপুটি স্পিকার ততটাই রক্ষণশীল। খুব দ্রুত মাইক বন্ধ করার মাঝে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া আনন্দ পান। (সুত্রঃ সংসদ টিভি)। সংসদে কেউ অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করলে তা স্পিকার সাথে সাথে বাতিল করেন। ডেপুটি স্পিকারও সেই ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু অপর দিকে বিএনপির সংরক্ষিত (মহিলা) আসনের অসহায় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করলেই ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া যেভাবে বাধাগ্রস্ত করেছেন, সেটা বলার ভাষা নেই।

আমি লক্ষ্য করেছি সংসদে যখন অনেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বা বাজেট বক্তৃতার রেওয়াজ লঙ্ঘন করে চোখ বন্ধ করে লিখিত ভাষণ পাঠ করেন স্পিকারের দিকে তাকানও না, সেটি ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া আনন্দে কবুল করেন। আমার জানা মতে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদ পড়ে যতটুকু জ্ঞানর্জন করেছি বা বোঝতে পেরেছি সেই আইন অনুযারে জাতীয় সংসদ হচ্ছে জাতির ভাগ্য নির্ধারণের সেই পবিত্র স্থান, যেখানে কিনা জাতীয় নীতি নির্ধারণী বিষয় নিয়ে আলোচনা, বিতর্কের তুফান তোলা যায়। মানুষের সমস্যা নিয়ে কথা বলা যায়। যে কোনো অন্যায়, অপরাধ নিয়ে কথা বলা যায়। মন্ত্রীদের ৩০০ বিধিতে কৈফিয়ত তলব করা যায়। কিন্তু বাউলগান গাওয়া যায় না। আপনারা নিশ্চিয় অবগত আছেন সংরক্ষিত (মহিলা) আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম যখন প্রথম সংসদে গান গাইলেন তখন, মাননীয় স্পিকার পয়েন্ট অব অর্ডার শিরোনামে অনুরোধ করেছিলাম, সংসদ সদস্যদের জন্য একটি কর্মশালার ব্যবস্থা করতে।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী তার মেধা, যোগ্যতা ও ব্যক্তিত্ব আমার শ্রদ্ধা কুড়িয়েছে। সে জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে সাধুবাদ জানাই যে একজন যোগ্য-ব্যাক্তিকে যোগ্য জায়গায় এনে বসার জন্য। কিন্তু গত সোমবার বাজেট আলোচনায় সরকারি দলের সংরক্ষিত (মহিলা) আসনের সদস্য জাকিয়া তাবাসসুম তিনি তাঁর নিজের লেখা গান গাইলেন। এ নিয়ে মাননীয় স্পিকার কোন কথা বলেন না। প্রবীণ সংসদ সদস্যরা যাদেরকে আমরা আমাদের আদর্শের নেতা মেনে থাকি বা আমাদের মমতাময়ী মা বাংলাদেশের উজ্জ্বল নক্ষত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দাঁড়িয়ে বলেন না, যে এখানে গান গাওয়া যায় না বা এতা গানের মঞ্চ নয় আলোচনা - বিতর্কের মঞ্চ। জাকিয়া তাবাসসুম যখন গান গাইছিলেন, তখন সিলেটের মানুষ যোগাযোগ দুর্ভোগে পতিত। ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়িতে শোকাহত। হাসপাতালে আহতদের আর্তনাদ। আমি তখন বসে বসে নীরবাগ হয়ে সেই দূশ্য গুলো দেখছি আর ভাবছি কি করে এটা সম্ভব মানুষ এতো টা নিচ কিভাবে হতে পারে।

আসলে সংসদ জাকিয়া তাবাসসুম সংরক্ষিত আসনের এমপি তাই তাঁর মর্ম বুঝেন না। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হতেন, রোদ্দুরে পুড়ে, বূষ্টিতে ভিজে এর ওর দ্বারে দ্বারে ভোট চেয়ে বেড়াতেন তাহলে একটু দয়া হতো আর সংসদে গান গাওয়ার আগে অসহায় মানুষদের চেহারাটা আপনার সামনে ভেসে উঠতো। তবুও দয়াময় আল্লাহর দরবারে ওনার জন্য প্রার্থনা করি। আমাদের সংসদ নেতা যেখানে চান, বিরোধী দলের সদস্যরা হাতে গোনা কম হলেও যদি তারা ন্যায্য কথাও বলে তিনি তা গ্রহণ করবেন। সেখানে তাদের কথা বলতে দিন। ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার কাছ থেকে আমরা বিশেষ কিছু আশা করছি না, তবে সংসদে তিনি তার পূর্বসূরি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদের (বর্তমান রাষ্টপতি) মতো কথা বলার পরিবেশ দিন সেটিও চাইছি না, তবে চাইছি, মাইক বন্ধ করবেন না। সংসদ সদস্যদের কথা বলতে দিন। মানুষ অন্তত দেখুক এই সংসদে বিরোধী দলকে কথা বলতে দেওয়া হয়। জবাব দেওয়ার জন্য সরকারি দলের নেতাকে কথা বলতে দিন অসুবিধা নেই। কিন্তু কারও মাইক বন্ধ করবেন না। এক মিনিট দুই মিনিট বেশি বললে ক্ষতি হবে না। মাইক বন্ধ করার ক্ষমতা থাকলেই বন্ধ করতে হয় না।

লেখকঃ মোঃ রেদওয়ানুল হক মিলন

redoanulhaquemilon@gmail.com

রেদওয়ানুল/ আওয়াজবিডি


mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ