বর্তমান সময়ের বিয়ে এবং কিছু সামাজিক নোংরামি

১০৪৬
বিয়ে

আশেপাশে বিয়ে হচ্ছে!বাহ খেয়াল করুন। দেখবেন লাখ লাখ টাকা খরচ করে হোটেল কিংবা কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিয়ে মেয়েপক্ষ খাবারের ব্যবস্থা করছে!এইসব কোথায় লিখা আছে আল্লাহু আ'লাম। আপনি বলতে পারেন মেয়ের বাপের টাকা আছে তাই খাওয়াচ্ছে!

আরে না ভাই!উলটো নিয়ম হলো আপনি বর হলে আপনি ওয়ালিমা করে মেয়ের সব আত্মীয়দের খাওয়াবেন। কিন্তু সমাজ চলতেছে উলটো পথে। অনেক বাবারা একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়ে পথের ফকির হতে বসেছে। অনেকেই মেয়ের যৌতুক দিতে গিয়ে জীবনের সব ইনকাম ঢেলে দিচ্ছে!বাবারা চায় তবুও জামাইয়ের ঘরে মেয়েরা সুখী থাক! কিন্তু কিছুদিন গেলেই দেখা যায় জামেলা শুরু হয়ে যাচ্ছে। আপনি খেয়াল করে দেখুন দেশের ডিভোর্সের অবস্থা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আশংকাজনক ভাবে বেড়েই যাচ্ছে। এতো টাকা খরচ করে যদি বিয়ে হলে মানুষ সুখী হতো তাইলে অন্তত কিছু সময় মানা যেতো কিন্তু আধতে বরং সামাজিক অধঃপতন হচ্ছে বেশী।

বিয়ের নামে অশ্লীলতা, নোংরামি, ফটোসেশান যেরুপ ধারণ করেছে তা আরো কত বছর পরে কোন পর্যায়ে গিয়ে নামবে তা আমি কল্পনাও করতে পারি না। বিয়ের অনুষ্ঠানের নামে ছেলেমেয়েদের যেরুপ অবাধ মেলামেশা শুরু হয়েছে তা বিয়ে নামক পবিত্র এই বন্ধনকে বরং কলুষিত করছে।

আরো অবাক হবেন এটা ভেবে যে, বর'রা লাখ লাখ টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির হয় কিন্তু তারা তাদের স্ত্রীর মোহরানা বিয়ের আগে আদায় করে না। আমাদের সমাজ কিংবা আমাদের মুরব্বিরা ও এ ব্যাপারে বড়ই নীরব ভূমিকা পালন করেন। কেন তারা সবকিছু জেনেও না জানার ভান করে থাকেন আমার বোধগম্য নয়।

সবচেয়ে আশ্চর্য হবেন খেয়াল করলে, দশ লাখ কিংবা বিশ লাখ কাবিন লিখিয়ে নেওয়া হয় কিন্তু তার সমানুপাতিক কিছুই দেওয়া হয় না কনেদেরকে। বরং বিয়ের কয়েক তোলা সোনা লিখিয়ে বাকী অংশ "বাকি'' লিখিয়ে কবুল পড়ানো হয়। আশ্চর্য না ব্যাপারটা!

আমরা ছেলেরা অনেককিছু পারিও বটে!বিয়ের সময় স্ত্রীকে লাখ টাকার আংটি দিতে পারি আবার বিয়ের সময় স্ত্রীকে নিয়ে গুলশান কিংবা বসুন্ধরা শপিং মলে ঘুরেফিরে দামী কাপড় পছন্দ করে বিয়ের মঞ্চে বসি কিন্তু বউয়ের মোহরানা আদায় করতে পারি না। কি কিউট না ব্যাপারটা!

থাক!সেসব কথায় আর নাই বা যাই। কথা হলো এই যে, গায়ে হলুদ কিংবা মেহেদী অনুষ্ঠানের নামে ভাই ব্রাদার কাজিন মাজিন সবাইকে একত্রে করে যে আজাইরা কাজ করা হয় তা কি ধর্মের কোন জায়গায় লিখা আছে। আপনি সুশীল হলে আপনার সাথে আমার কোন তর্ক নাই। আপনি সেকুলারিজমে যদি বিশ্বাস করেন তাহলেও আপনার সাথে আমার কোন তর্ক নাই!

আমার কথাটা তার জন্য যে নিয়মিত নামাজ আদায় করে এবং ইসলাম মেনে চলার চেস্টা করে কিন্তু নানারকম ভুলের কারণে অনেক বড় পাপ করে ফেলেন। আমরা সবাই মুখে বলি আসুন ধর্ম মানি কিন্তু বাস্তবতা হলো বিয়ের সময় কিংবা কোন অনুষ্ঠানের সময় সবকিছু ভুলে হিন্দি নাচের তালে নাচি আর ফটোসেশন করি।

আরে ভাই আর বোন!বিয়ে নাচ গানের জন্য আসে নাই। বিয়ে হলো হাফ অফ দ্বীন। জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ হলো বিয়ে। আর এই বিয়েতে যখন মেমোরি ধরে রাখার নামে বন্ধু বান্ধন কিংবা বান্ধবী নিয়ে নিজের বিয়ে করা বউয়ের সাথে স্মাইলিং ফেস নিয়ে ছবি উঠান তখন কি নিজের বিবেকটা একটু ও কাদেঁ না! বউ তো আপনার!আপনার বন্ধুর ও না! আপনার পাড়া প্রতিবেশীর ও না! তাহলে আপনার বউয়ের সাথে সারা জগতের মানুষ ছবি তুলবে কেন!এই দায়ভার আমার!এই দায়ভার আমাদের! এই দায়ভার আমাদের সমাজের।

ধর্ম কখনোই আপনাকে বলে নাই বিয়ের আসরে বসে আত্মীয় স্বজনের সাথে হাসিমুখে ছবি উঠানোর জন্য। শুধু ছবি উঠানো না। আরো আছে; খাওয়া দাওয়া পর্ব শেষ হওয়ার পরে হিন্দি নাচের তালে আর হলিউড মিউজিক দিয়ে নাচ পর্ব চলে!নাচের সময় পাত্র আর পাত্রীরাও অনেক সময় কি সুন্দর ভাবে নাচেন আবার তা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। আপনার বিবেক খাটান। দয়া করে বিবেক খাটান। কি অপরাধ করে যাচ্ছি আমরা। আমরা কি আমাদের ছেলে মেয়েদেরকে আমাদের বিয়ের নাচের ভিডিও দেখাতে চাই!

ধর্ম মানলে পুরোপুরি ধর্ম মানতে হবে। মুখে বললাম মুসলমান কিন্তু কাজে কামে কোন প্রমাণ নাই। এইসব মুসলমানদের দিয়ে আসলে কোন লাভ ও নাই। নিজে নিজের অবস্থান থেকে দ্বীন কায়েমের জন্য সর্বোচ্চ চেস্টা করে যাওয়া আমাদের কর্তব্য।

পবিত্র আল কোরআন বলছেঃ
তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশ অবিশ্বাস করো? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা-গঞ্জনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন। এরাই সে সব লোক যারা পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করেছে। অতএব এদের শাস্তি লঘু হবে না এবং এরা সাহায্যও পাবে না। [সুরা বাকারাহ ৮৫-৮৬]


mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ