শিগগিরই বাদলের ধারা

মালাকার
ছবি: দীপু মালাকার

টানা খরতাপের পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ঋতুচক্রের পালাবদলে আর কিছুদিনের মধ্যে বিদায় নেবে গ্রীষ্ম। আর বর্ষাও এগিয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিও হয়েছে। ফলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আজ সোমবার ও আগামীকাল মঙ্গলবার ছাড়াও ঈদের দিন রাজধানীতে বৃষ্টি ঝরতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বলছে, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারে। এতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। আজ থেকেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ গত দুই দিনের চেয়ে আরও বাড়বে। বিশেষ করে রাজধানীসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলা চট্টগ্রাম, পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

গত শনিবার রাত থেকে গতকাল সারা দিন রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। এ সময় কালবৈশাখী আঘাত হেনেছে রাজধানীসহ দেশের অনেক এলাকায়। রাজধানীতে গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সকাল সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১২ মিলিমিটার। গতকাল সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে নওগাঁয় বদলগাছিতে, ৬৫ মিলিমিটার।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান বলেন, মৌসুমি বায়ু ইতিমধ্যে ভারত মহাসাগরের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করে বাংলাদেশের কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে সারা দেশে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টি আগামী চার-পাঁচ দিন চলতে পারে। মৌসুমি বায়ু দু-তিন দিনের মধ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে ঈদের দিনও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, সাধারণত প্রতিবছর জুনের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ মৌসুমি বায়ু হাজির হয়ে বর্ষা শুরু হয়। গত বছর ও তার আগের বছর মৌসুমি বায়ু কিছুটা আগেই বাংলাদেশে হাজির হয়েছিল। এ বছর যথাসময়ে অর্থাৎ জুনের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ উপকূলে হাজির হচ্ছে বলে ধারণা করছে আবহাওয়া দপ্তর। মূলত টেকনাফ দিয়ে বিস্তীর্ণ ওই বায়ুপ্রবাহটি বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ফলে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে টেকনাফ ও কক্সবাজারে প্রবল বৃষ্টি হতে পারে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর আইএমডি বলছে, এ বছর মৌসুমি বায়ু বেশ শক্তিশালী হয়ে ইতিমধ্যে দেশটির দক্ষিণের রাজ্য কেরালা উপকূল দিয়ে প্রবেশ করেছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে তা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করবে। ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এর প্রভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

আকাশ মেঘলা থাকায় ও বৃষ্টি শুরু হওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। সেই সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা ৮০ থেকে বেড়ে ৯০ শতাংশ হয়েছে। ফলে দেশের অনেক এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে।


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
https://www.awaazbd.net/author/oeazq8
mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ