শুভ কামনা বাংলাদেশ

১০৩১
শাহ আহমদ সাজ

ক্রিকেট নিয়ে লিখতে সবসময় ভালো লাগে। অনেকদিন কর্মবিরতি দিয়ে বরাবরের মতো বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে কিছুটা লেখা শেয়ার করা। লিখছি যখন তার একটু আগেই ইংল্যান্ডে হয়ে গেল সাদামাটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান!

যদিও এই অনুষ্ঠান নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই। আসল লড়াই তো আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পর। স্বাগতিক ইংল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে এবারের বিশ্বকাপ। ২২ গজের ১২টি ভেন্যুতে সর্বমোট ১০ দলের লড়াই নিয়ে চলছে অনেক জল্পনা কল্পনা।

কে হবে ক্রিকেটের এই বড় মঞ্চে বিশ্বসেরা দল?

৪৮টি ম্যাচের ক্রিকেট বিশ্বকাপে এবারের আসরে নিয়ে ইংল্যান্ড মোট চারবার আয়োজন করছে। কিন্তু ভাগ্য কখনো সহায় হয়নি তাদের জন্য। বিশ্বকাপ জেতার খুব কাছে গিয়েও পারেনি সেই অধরা বিশ্বকাপের তকমা লাগাতে। তাই এবারের আসরে শুধু স্বাগতিক আয়োজক হিসেবে নয় সর্বকালের সবচেয়ে ভালো দল ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্বকাপ নেয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছে ব্রিটিশরা।

দ্বিতীয় দল হিসেবে ভারত ব্যাটিং ও বোলিং দিয়ে খুবই ব্যালান্সড মনে হয়েছে আমার কাছে। যদিও ওয়ার্ম আপ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে বাজেভাবে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল ভারত। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের সাথে খুব ভালোভাবে জিতে আগাম হুঙ্কার দিয়ে রেখেছে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলটি।

তৃতীয় দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়া যেন ঘুরে ফিরে বলতে হচ্ছে। বল ট্যাম্পারিং-এর জন্য স্মিথ ও ওয়ার্নের কালো অধ্যায়ের পর ঠিক বিশ্বকাপের আগে তাদের ফিরে পেয়ে ব্যাটিং ডিপার্টমেন্ট যেন আরো শক্তিশালী হয়েছে। এমনকি বিশ্বকাপের আগে এশিয়ার মাঠিতে ভারত ও পাকিস্তানকে হারিয়ে দলটি সেই জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে বিশ্বকাপ ওয়ার্মআপ ম্যাচেও।

চতুর্থ দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যারা কিনা বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব লড়াই করে মূল পর্বে খেলছে সেই দলটি হট ফেবারিটের তালিকায়! সত্যি কথা বলতে উইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের নানা সমস্যায় যেসব খেলোয়াড়রা সারা বিশ্বে টি টোয়েন্টি দাপটের সাথে রাজ করে খেলছেন তারা যদি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকেন তবে বাজির ঘোড়ায় তাদের রাখতেই হবে।

পঞ্চম দল নিউজিল্যান্ড। বিরাট কোহলি যেভাবে নিজের ক্যাপ্টন নক খেলেন ঠিক কিউই দলে আছেন কেন উইলিয়ামসন। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সব দিক দিয়ে সেমিফাইনাল খেলার দাবিদার এই দলটি।

সারা বছর ভালো পারফরম্যান্স করে বিশ্বকাপে হোঁচট খায় যে দলটি তার নাম দক্ষিণ আফ্রিকা। এবারের আসরে আফ্রিকার দলটি ব্যাটিং ডিপার্টমেন্ট যতটা না শক্তিশালী তার চেয়ে ভাবছে বোলিং ডিপার্টমেন্টের ইনজুরি। তারপরও মাঠের লড়াইয়ে বুঝা যাবে কে কত শক্তিশালী।

এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ থেকে মাশরাফির হাত ধরে বদলে যাওয়া একটি দলের নাম। ক্রিকেট বিশ্বকে তাকে লাগিয়ে ঘরের মাঠিতে একে একে বদ করেছে পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বিশ্ব সেরা দলকে। সেই দলের মূল কন্ডারি পাঁচজন। তামিম, সাকিব, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ মাশরাফি।

ওদের দিন যেই সেরা টা দেয় বাংলাদেশ দল জিতে। এবারের আসরে সবার চোখ থাকবে ওই পাঁচজনের উপর। তাদের সাথে আছেন সৌম্য, লিটন, সাব্বিররা। দেশের মাঠিতে প্রায় ৭২ গড় জেতা দলটিকে নিয়ে বিশ্ব মিডিয়া কিছুতেই ফেবারিট বা সেমি ফাইনাল খেলার পূর্বাভাস দিতে রাজি নয়।

কারণ যদি খুঁজতে যাই তবে সবচেয়ে আগে আসে ফাস্ট বোলিং ডিপার্টমেন্ট নিয়ে যেখানে দুশ্চিন্তার কালো ভাঁজ। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজে সেটা ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ কোনো ট্রফি জিতল। সেটা যেমন প্রাপ্তির ঠিক তেমনি ইংল্যান্ডের মাঠিতে রানের ফুয়ারা হবে সেটাও ভাববার বিষয়। কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ নিভে নিভে হঠাৎ জ্বলছেন তার উপর মাশরাফিকে ভুগাচ্ছে ইনজুরি। প্রথমবার ওয়ানডে দলে সুযোগ পাওয়া আবু জায়েদ রাহিও এক ম্যাচ ৫ উইকেট নিলেও কিপটেমি বোলিং করতে পারেননি তিনি। রুবেলেও আছেন সেই অবস্থায়।

ভারতের বিপক্ষে উইকেট পেলেও ছিলেন খরুচে! তাই চাপটা নিতে হবে ব্যাটসম্যানদের। কারণ গত কয়েক বছর ধরে ওয়ানডে ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের উইকেট ব্যাটিং সহায়ক। আর সেখানে ৫০০ রানের স্কোরও যদি হয় তবে অবাক করার মতো কিছু থাকবে না। সম্প্রতি ওয়ার্ম আপ ম্যাচে উইন্ডিজ ও গতবছর ইংল্যান্ডের হাই স্কোর ম্যাচ এটাই প্রমাণ করে।

সবকিছুর পর খেলার মাঠে যে সেরাটা দিতে পারবে সেই জিতবে। আর সেই সেরাটা দেয়ার মতো সব সামর্থ আছে টাইগারদের। কারণ এবারই প্রথম প্রত্যেকটি দল খেলবে একে ওপরের বিপক্ষে। যেখানে সেরা চারটি দল খেলবে সেমিতে। আর সেই লক্ষ্য নিয়ে ম্যাশ বাহিনী এগিয়ে যাবে এবং সৃষ্টি করবে নতুন ইতিহাস তার জন্য শুভ কামনা বাংলাদেশ।

লেখক, সম্পাদক।


mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ