আগুনে পুড়িয়ে সারা রাত রুমে আটকে রেখেছিল স্বামী

রাফেল

চট্টগ্রামে স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ ইয়াসমিন আক্তার সুইটিকে (৩০) উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, তার শরীরের ২৫ শতাংশ দগ্ধ রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়।

হাসপাতালে দগ্ধ ইয়াসমিনের ছোট ভাই রবিউল হোসেন মুন্না জানান, তাদের বাড়ি চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া চন্দ্রকোনা লিচুবাগান এলাকায়। আর তার বোনের স্বামী মো. সলিমুল্লাহ রাফেলের বাসা চন্দ্রকোনা পূর্ব কোদালা গোয়ালপুরা এলাকায়। ৫ বছরের ছেলে রাফিকে নিয়ে স্বামীর বাসাতেই থাকত তার বোন। ৭ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তার স্বামী রাফেল প্রথমে ইট বালুর ঠিকাদারি করত। পরবর্তীতে তাকে ইয়াসমিনের বাবার বাড়ির মাধ্যমে ইন্টারনেট ক্যাবল ব্যবসায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি জানান, মাসে ২৫/৩০ হাজার টাকা ইনকাম করত রাফেল। তারপরও সে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিত। পরে আর ঋণ পরিশোধ করত না। অন্যদিকে ঋণ পরিশোধ করার জন্য ইয়াসমিনকে চাপ দিত বাবার বাড়ি থেকে টানা আনতে। ইয়াসমিন বাবার বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করত।

ইতিমধ্যে এক দেড় লাখ টাকাও এভাবে ইয়াসমিনের মাধ্যমে নিয়েছে সে। বেশ কিছুদিন ধরে রাফেল নিয়মিত বাসায় বাজার সদাইও করত না, রাত করে বাসায় ফিরত, আর তার ফোনে বিভিন্ন মেয়েদের কল, মেসেজ আসত। এই সব বিষয় নিয়ে ইয়াসমিনের সঙ্গে তার ঝামেলা হতো। এ কারণে রাফেল তাকে মারধরও করত। বাসা ফাঁকা থাকায়

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রুমের দরজা আটকে মোটরসাইকেলের পেট্রল ইয়াসমিনের গায়ে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় সে। পরে ইয়াসমিন নিজেই কাঁথা দিয়ে শরীর ঢেকে আগুন নিভিয়ে ফেলে। সারা রাত দগ্ধ অবস্থায়ই রুমে আটকে রেখেছিল তাকে। তার কাছে ফোন না থাকায় কাউকে কলও করতে পারেনি সে। আর কাউকে বাসায় ডেকে আনলে তাকেও জবাই করে মেরে ফেলবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় রাফেল। এত নির্যাতন করেও ক্ষান্ত হয়নি রাফেল। রাতে দগ্ধ ইয়াসমিনের শরীরের ঝলসানো চামড়াও টেনে টেনে তুলেছে সে।

স্বজনরা আরও জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ইয়াসমিনের ফোন পেয়ে তারা স্বামীর বাসায় যায় তারা। সেখানে গিয়ে ওই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যকে নিয়ে তার বাসার দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে। পরে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেলে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন চিকিৎসকেরা।


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
https://www.awaazbd.net/author/awaazbd-online-news

আওয়াজবিডি অনলাইন ডেস্ক

mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ