ট্রাম্প আবার জিতলে অভিবাসন বন্ধ হবে

অনলাইন ডেস্ক
রওশন হক, যুক্তরাষ্ট্র
১৯ অক্টোবর ২০২০, ০২:১৯ অপরাহ্ণ
৭৯০
ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তেজনার পারদ উঠছে। সব জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী জো বাইডেন এগিয়ে থাকলেও ইলেকটোরাল কলেজের জটিল হিসেবে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালের পুনরাবৃত্তি দেখান কিনা, সেটাই এখন সবচেয়ে আলোচনার বিষয়। জাতীয় রাজনীতিতে বিষয়টি এখন অনেকটাই ট্রাম্প বনাম ট্রাম্পবরোধী হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্পের চার বছরের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক রিপাবলিকানও এখন বাইডেনকে সমর্থন করছেন। আবার অভিবাসীবিরোধী নানা পদক্ষেপের পরও কিছু অভিবাসী তাকে সমর্থন করছেন। উগ্র সাম্প্রদায়িক শ্বেতাঙ্গবাদী গোষ্ঠী তাকে সমর্থন করছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার নির্বাচন নিয়ে এ দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে আগ্রহ তুলনামূলক বেশি। এ নিয়ে কথা হয় কমিউনিটির নানা শ্রেণিপেশা ও নানা বয়সী মানুষের সঙ্গে।

এবার নির্বাচনে মানুষ সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িকতা, বর্ণবৈষম্য ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন বলে বিশ্বাস করেন ২৫ বছর বয়সী অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার ইয়ামিন আহমেদ। নিউজার্সির মনমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল ওয়ার্ক বিভাগের অধ্যাপক গোলাম মাতবর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিভাজন সৃষ্টিকারী, মহামারি ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ, করোনায় লাখো মানুষের মৃত্যু নিয়ে উপহাসকারী একজন মানুষ কখনোই আবার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না।

ট্রাম্প ক্ষমতায় আসলে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকিতে পড়বে। তিনি ওবামা কেয়ার হিসেবে অ্যাফোরডেবল কেয়ার, যাকে আমরা বলি তা তুলে নেবেন। এবার ভোট দেওয়ার সময়ে মানুষ নিশ্চয়ই এসব বিষয় মাথায় রেখে ভোট দেবেন।

রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকোত্তর ও বর্তমানে রাটগার্স মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ক্রিস্টিনা রোজারিও বলেন, এই সরকারের সময়ে কাজ করতে গিয়ে রাষ্ট্রপ্রধানের কার্যালয় থেকে অযৌক্তিক অনৈতিক কাজের চাপ নিতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে।

সেই সম্মান পুনরুদ্ধারের জন্য বাইডেন–হ্যারিসের সরকার গঠন করা উচিত। অ্যাটর্নি মীর মিজান। তিনি বলেন, ট্রাম্প সরকার সাদা–কালোর বিভেদ বাড়িয়ে বিশ্বের কাছে এ দেশকে নিচে নামিয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে নতুন বিচারক নিয়োগ দিয়ে বিচার বিভাগে ৬/৩ অবস্থা তৈরি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রকে তছনছ করে দেবে। আবার নির্বাচিত হলে ট্রাম্প পারিবারিক অভিবাসনসহ অনেক কিছু বাতিল করে দেবেন। বাইডেন-হ্যারিস ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ (সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা) সমর্থন করছেন।

মীর মিজান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘বিভাজনকারী নেতা’ বলে অভিযোগ করে বলেন, ট্রাম্প নিজে করোনা সংক্রমিত হয়ে এখন এ সম্পর্কে বক্তব্য পরিবর্তন করছেন। তবে তার সরকারের হেলাফেলার কারণে দেশে দুই লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে। তাই তার ভোটের রায় ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে যাবে বলে জানান। ছড়াকার ও সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্ট মনজুর কাদের অবশ্য ট্রাম্পের পক্ষে।

তার বিশ্বাস ট্রাম্প আবারও জিতবে। রিপাবলিকান সরকার সব সময়ই মানুষের জন্য নতুন চাকরির বাজার তৈরি করে। করোনা মহামারির প্রভাব নিয়েও তিনি সন্দিহান। তার ভাষায়, ট্রাম্প সমর্থকেরা করোনা সংক্রমণে বিশ্বাস করে না। তারা গোঁড়া ধার্মিক, বিজ্ঞানমনস্ক নয়। এসব কারণেই জুইশ ভোটাররা তাকেই আবার ভোট দেবে।

এনওয়াইপিডিতে কর্মরত সুতপা মণ্ডল ও আবৃত্তিকার গোপন সাহা নির্বাচন নিয়ে কিছুটা সতর্ক। তারা বলছেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো করবেন, তাকেই মানুষ ভোট দেবে। গায়ক, চিত্রশিল্পী, আবৃতি শিল্পী ও সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্ট তাজুল ইমাম বলেন, ট্রাম্প প্রেসিডেনশিয়াল ডিসেন্সির সীমা লঙ্ঘন করেছেন। তাই তার পছন্দ জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিস।

নিউইয়র্কে বসবাসরত ইমিগ্রেশন আইনজীবী অমিত ফারহান ডেমোক্র্যাট ও প্রোগ্রেসিভ দলের সাপোর্টার। তিনি বলেন, ‘আমি উদারপন্থী প্রার্থীকে ভোট দিতে চাই। আমার ধারণা, তরুণদের ভোট দিতে আরও উৎসাহিত করা উচিত।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। এর মধ্য দিয়ে আগামী ৩ নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে দেশটির অর্থনীতিতে তহবিল জোগাতে বড় ধরনের কিছু করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার এই উদ্যোগ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন।


mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ