নবীগঞ্জে তিন ভাইয়ের ত্রাসের রাজত্ব, ভয়ে ভিটেমাটি ছাড়া গ্রামবাসী

আওয়াজবিডি প্রতিবেদক
আওয়াজবিডি প্রতিবেদক
১৪ আগস্ট ২০২০, ০৬:১১ অপরাহ্ণ
৭৭৪
তিন ভাইয়ের ত্রাসের রাজত্ব

নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের দেবপাড়া বাঁশডর গ্রামে জাহির হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ওই গ্রামে চলছে ত্রাসের রাজত্ব। মামলার আসামিদের বাড়িতে দিনে চুরি,লুটপাট নির্যাতন এবং রাতে সঙ্গবদ্ধভাবে সুন্দরী গৃহবধু ও যুবতীদের গণধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব ঘটনায় কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না দেবপাড়া বাঁশডর গ্রামের পুরুষশূন্য বাড়ির লোকজন।এমন ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নির্যাতিত পরিবারের অসহায় মহিলারা। এমন কী নিজের পিতাকে হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে খুনের নাটক সাজানো হয়েছে বলেও দাবি করছেন গ্রামের অসহায় পরিবারগুলো। এমন অভিযোগ উঠেছে মৃত জাহির আলীর তিন পুত্র আরশ আলী, আবুল খান এবং সমুজ আলীর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলছেন, গত (১৬ জুলাই) জলমহাল নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনায় জাহির আলী নামে এক বৃদ্ধ লোককে নিজেরা হত্যা করে খুনের নাটক সাজানো হয়। সেই খুনের ঘটনায় বাঁশডর গ্রামের প্রায় ৯৩ জনের নাম উল্লেখ করে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন আরশ আলী।

এ ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন সাধারণ মানুষ। তবে তিন ভাইয়ের হয়রানির ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি না।

সুত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের দেবপাড়া বাঁশডর গ্রামে জলমহাল নিয়ে দু’পেক্ষর মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় বিরোধের মিমাংসা করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন মিথ্যা মামলাসহ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয় আবুল খান ও তার ভাইয়েরা।

এতে চরম হয়রানির শিকার হন গ্রামের নিরীহ লোকজন। এ নিয়ে আবারও চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয় গ্রামবাসীর মধ্যে। তিন ভাইয়ের ত্রাসের রাজত্বে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী প্রতিবাদী হয়ে একপর্যায়ে গত ১৬ জুলাই গ্রামবাসীর সাথে সংঘর্ষ বাঁধে আরশ আলীদের। এসময় গ্রামবাসীকে ঘায়েল করতে নিজেরাই খুন করে আরশ আলীর পিতা জাহির আলীকে, দাবি গ্রামবাসীর।

এতে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়ে বাঁশডর গ্রাম। এ সুযোগ ও সময় কাজে লাগিয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে তিন ভাইয়ের রাজত্ব। শুরু হয় গ্রামের নিরীহ সুন্দরী যুবতি এবং গ্রামের মহিলাদের নির্যাতন। এমন কী পুরুষ শূন্য গ্রামে ছালেহা বেগম নামে এক গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে পুরুষ শূন্য গ্রামে আরশ আলী, আবুল খান, সমুজ আলীর নেতৃত্বে প্রতিপক্ষ পুরুষ শূন্য বাড়িতে লুটপাট অত্যাচার শারীরিক নির্যাতন প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। তাদের আতঙ্কে চরম হতাশায় ও ধর্ষণের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নিরীহ পরিবার গুলো। ধর্ষণের ভয়ে অনেক পরিবার উপযুক্ত মেয়েরা গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন অন্যের বাড়িতে।

হত্যা মামলা দায়ের করে পুরুষ শূন্য গ্রাম থেকে লুটপাট করে আবুল গংরা রাজা মিয়া, নূর হোসেন, সামাদ মিয়া,জাহাঙ্গীর মিয়া,কাচন মিয়া,হাচন মিয়া,মনি মিয়া,টেকা মিয়া,হাজি নাজমুল মিয়া, আজির উদ্দিন, মুজিব মিয়ার দোকানের মালামাল নগদ টাকা,স্বর্ণলংকার,ফার্নিচার,টিভি,ফ্রিজ,দশটি ফিসারির মাছ,৪০ টি গরু,১২ টি নৌকা লুটপাট করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এর মধ্যে লুটপাটকৃত চারটি নৌকা সোনাপুর বিক্রিকালে জনতা সন্দেহ হলে আটক করেন। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সত্যজিত দাশের জিম্মায় রাখা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ নবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করতে চাইলে রহস্যজনক কারনে তাদের অভিযোগ থানায় গ্রহণ করা হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৃত জাহির আলীর তিন পুত্র মূলত অবৈধপথে মানবপাচারের সাথে জড়িত। এরমধ্যে আবুল একজন প্রতারক। তার বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবুলের বিরুদ্ধে রয়েছে পুলিশ পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ।

এদিকে আবুলের ভাই সমুজ আলীর বিরুদ্ধে মানবপাচারের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে এলাকায়। ইউরোপের কথা বলে এলাকার মানুষের সাথে প্রতারণা করে দুই ভাই মিলে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকা। এমনটাই জানা গেছে ভুক্তভোগীদের মুখ থেকে।

আবুল তার অপকর্ম ঢাকতে থানার এসআই ,এএসআইসহ বেশকজন পুলিশের সাথে গড়ে তুলেছে সক্ষতাও। পুলিশের সাথে সক্ষতা থাকায় সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও করছে অহরহ। এদিকে জলমহাল নিয়ে দেবপাড়া বাঁশডর গ্রামে বিরোধ দেখা দিলে নিজেকে যুবলীগ নেতা দাবি করে জলমহাল নিজেদের দাবি করে উস্কানি দেয় আবুল ও তার লোকজন।

পুলিশের সাথে আবুলের সক্ষতা থাকার কারণে গ্রামের অসহায় লোকদের প্রতি আবুল ও তার পরিবারের নির্যাতন বাড়তে থাকে দিনদিন। এভাবেই ওই গ্রামে তিন ভাইয়ের চলছে ত্রাসের রাজত্ব।

এ থেকে মুক্তি চায় এলাকাবাসী। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জাহির আলী হত্যার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান বাঁশডর গ্রামবাসী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল ও তার লোকজন এ প্রতিবেদককে ভুয়া সাংবাদিক বলে সটকে পড়ে।

এসএম/আওয়াজবিডি 


আওয়াজবিডি প্রতিবেদক
আওয়াজবিডি প্রতিবেদক
https://www.awaazbd.net/author/awaaz-bd
mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ