প্রসঙ্গ সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম

বাংলাদেশের গণমাধ্যম কিছু অদৃশ্য হাতের কাছে জিম্মি

শাহ আহমদ

শুরুটা হলো নিজের অনলাইন পোর্টাল আওয়াজবিডি দিয়ে। এর আগে দেশের মানুষের কষ্ট, দুর্দশা নিয়ে মাঝেমধ্যে ভিডিও ব্লগিং। কিছু কিছু অল্প পরিসরে লেখালেখি। তারপর আমেরিকায় বাংলা অনালাইন গণমাধ্যমে অবসর সময় রিপোর্টিং।

ধীরে ধীরে প্রবাসে এবং দেশে কাছের বন্ধু ও ফেসবুকের ভালোবাসার সহযাত্রীদের অনুপ্রেরণায় আওয়াজবিডি ডোমেইন দিয়ে কাজ শুরু করলাম। প্রথম ও দ্বিতীয় বছর পোর্টালটি কিছুটা পরিচিত পেলেও আমেরিকায় প্রবাসীদের কাছে গ্রহযোগ্যতা পাওয়া শুরু করে। ২০১৮ সালে তারই ধারাবাহিকতায় নিউইয়র্কের প্রিন্ট কপি শুরু করলাম। সবই অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। বলে রাখা ভালো সাংবাদিকতা আমার নেশা, পেশা নয়।

তবে ২০১৭ সালে দুর্নীতির খবর প্রকাশ করার কারণে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার এমনকি মেরে ফেলার হুমকি আসে,নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেয়া হবে এসব নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠে। এরপর হোস্টিং প্রোভাইডারকে পর্যন্ত হুমকি-ধামকি। তারপর বুঝতে পারলাম সবেমাত্র শুরু। ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়াজবিডিসহ ৫৮টি পোর্টাল বন্ধ করে দেয়া হয়।

কেন বন্ধ কী বা অপরাধ, কী অভিযোগ কোনো কিছুর উত্তর নেই। এ বিষয়ে অনেকেই অবগত আছেন। যেহেতু দেশের পাঠকের কাছে আওয়াজবিডি একটি বিশ্বস্ত অনলাইন গণমাধ্যম হয়ে উঠছে তাই কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তরের অপেক্ষা না করে ডট নেট ডোমেইন চালু করলাম। আর কী কারণে ডট কম বন্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠান 'বিটিআরসির' কাছে আওয়াজবিডির বার্তা সম্পাদক ধরনা দিতে দিতে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। এ যেন দেশের গণমাধ্যম কিছু অদৃশ্য হাতের কাছে জিম্মি।

অবশেষে বুঝলাম আর যাই হোক বাংলাদেশে মামা-খালু না থাকলে, দালালি, চামচামি না করলে গণমাধ্যমও থাকবে না। উপরেও উঠা যাবে না। ২০১৮ সালের পর ২০২০ মাঝখানে বছর থেকে একটু বেশি। করোনার তাণ্ডব শুরু দেশে। আর সেইসময় কিছু অসাধু মানুষরা ত্রাণ নিয়ে করছে ব্যবসা, লুটেপুটে খাচ্ছে অসহায় মানুষদের হক। আওয়াজবিডি নিউজগুলো প্রকাশ করতে লাগলো।

এবার তাদের নজর আবার আওয়াজবিডির ওপর। ডট কম ব্লক করেছে, এবার ডট নেটও। এর আগে সকল নিয়ম মেনে আমরা নিবন্ধনের জন্য আবেদনপত্র জমা দেই। এমনকি উত্তর আমেরিকার সঙ্গে আমাদের ঢাকা অফিসেও কাজ করেন সংবাদকর্মীরা। সারাদেশে কাজ করেন প্রায় ৫০ জনের বেশি সাংবাদিক।কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য বিনা নোটিসে এই ব্লক কেন বা কী তার অপরাধ আজও জানি না। সরকারের অনেক উপরমহলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা বলে ডিজিএফআই করেছে।

এখন কথা হলো কী কারণে করেছে সে উত্তর তাদের কাছে নেই। এতটুকু বলতে চাই, আওয়াজবিডি দুর্নীতি খবর প্রকাশ করে, করবে তবে আওয়াজবিডি কখনো সত্যের সঙ্গে আপোষ করবে না। দেশ, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, এমনকি উস্কানিমূলক কোনো খবর আজ পর্যন্ত আওয়াজবিডি করে নি। "আওয়াজ হবে সত্যের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে।"

লেখক: সাংবাদিক, সম্পাদক।


শাহ আহমদ সাজ
শাহ আহমদ সাজ
https://www.awaazbd.net/author/awaaz-usa

শাহ আহমদ সাজ ১৯৮৭ সালে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জন্মগ্রহন করেন। শিক্ষা জীবনের শুরু ঢাকার সানরাইজ প্রি ক্যাডেট এন্ড কলেজে। তারপর ২০০৪ সালে কুলাউড়ার জালালাবাদ হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ২০০৬ সালে মদন মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ২০০৭ সালে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি অনার্সে ভর্তি হন।এরপর ইনফরমেশন টেকনোলজিতে পড়ালেখার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমান এবং ক্রাউন ইন্টারন্যাশনাল কলেজে ব্যাচেলর শেষ করেন। বর্তমানে সপরিবারের যুক্তরাস্ট্রে বসবাসরত শাহ আহমদ, ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য ও সৃজনশীল সবধরনের কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে আওয়াজবিডি ও সাপ্তাহিক আওয়াজবিডির প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশের দায়িত্ব পালন করছেন।শাহ আহমদ বাংলাদেশ ডন-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।

mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ