উদ্ধারকারী বাহিনী নিয়ে লেবাননে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ

ভয়াবহ বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয়ে পড়া লেবাননের রাজধানী বৈরুত সফর করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এই সফরে তিনি দেশটিকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ডাক দিয়েছেন সংস্কারের। টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘লেবানন একা নয়।তবে ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় আক্রান্ত লেবানন গভীর অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে আর জরুরি ভিত্তিতে দেশটিতে সংস্কার আনা না হলে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুই দফায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে লেবাননের রাজধানী বৈরুত। বিস্ফোরণ এতই শক্তিশালী ছিল যে ২৪০ কিলোমিটার দূরে সাইপ্রাস থেকেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। এই ধ্বংসলীলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৫ হাজার। ক্ষতি হয়েছে শত শত কোটি ডলারের।

লেবানন বলছে, গুদামে মজুত থাকা রাসায়নিক পদার্থ ‘অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট’ থেকেই বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে সেখানকার বাসিন্দারা। এই বিপর্যয়ের জন্য রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বৈরুতে পৌঁছান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।

বৃহস্পতিবার বৈরুত পৌঁছে বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শন করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সাগরপাড়ের জায়গাটি বর্তমানে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। বিস্ফোরণে তৈরি হওয়া ১৪০ মিটারের বিশাল গর্তটি সাগরের পানিতে পূর্ণ হয়ে গেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বিস্ফোরণে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া একটি ফার্মেসি পরিদর্শনে গেলে বাইরে সমবেত হয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। এএফপি জানিয়েছে, নিজ দেশের নেতৃত্বকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে ‘শোষণ অবসানের’ দাবিতে স্লোগান দেয় তারা।

এদিকে বৈরুতে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে ফরাসি উদ্ধারকারীরা। ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল, চিকিৎসা সামগ্রী এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরাসি উদ্ধারকারীরা একটি ভেঙে পড়া ভবনে আটকে পড়া বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই স্থান পরিদর্শনে গেলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে জানানো হয় তাদের উদ্ধারের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

বৈরুতের গভর্নরের প্রাথমিক হিসাবে বিস্ফোণের কারণে প্রায় তিন হাজার মানুষ সাময়িকভাবে আশ্রয়হীন হয়েছে। এসব মানুষের পুনরায় আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে ইতোমধ্যে ঋণ জর্জরিত দেশটির অতিরিক্ত তিনশ’ কোটি ডলার ব্যয় হবে বলে জানান তিনি।

এম আর/আওয়াজবিডি


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
https://www.awaazbd.net/author/awaazbdonlinenews

অনলাইন ডেস্ক

mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ