তারেক-মিশুক নিহতের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বাসচালক জামিরের মৃত্যু

তারেক-মিশুক-জামির
বামে থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তারেক-মিশুক, সাজাপ্রাপ্ত বাস চালক জামির হোসেন

মিশুক মুনির ও তারেক মাসুদের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি বাস চালক জামির হোসেন মারা গেছেন। শনিবার ঈদের দিন সকালে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

তিনি গত শুক্রবার কাশিমপুর কারাগারে সাজা ভোগকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন।নিহত জামির হোসেন চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড় স্কুলপাড়ার মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে।তিনি চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।  

চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের স্বত্বাধিকারী মজিবুল হক খোকন জানান, যাবজ্জীবন রায় ঘোষণার পর থেকেই জামির কাশিমপুর কারাগারে সাজাভোগ করছিলেন।

এরই মধ্যে গত শুক্রবার সাজাভোগকালে কারাগারেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। শনিবার সকালে তার একমাত্র জামাতা মোবাইল ফোনে জানান জামির মৃত্যুবরণ করেছে। তার মরদেহ নিজ বাড়িতে ফেরত আনার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টায় দুর্ঘটনা ঘটে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঘিওর উপজেলার পুকুরিয়া নামক স্থানে।চলচ্চিত্র পরিচালক তারেক মাসুদদের বহনকারী মাইক্রোবাসের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ ৫ জন নিহত হন।

ওই দিনই ঘিওর থানার এসআই লুৎফর রহমান দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান ঘিওর থানার তৎকালীন ওসি আশরাফ উল ইসলাম। দুর্ঘটনার পরের দিন চালক জামির হোসেনকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে মেহেরপুর জেলার চৌগাছা গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে।  

একই বছরের ১৭ নভেম্বর জামিনে মুক্ত হন তিনি। ২০১২ সালের ২১ মার্চ মানিকগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।অভিযোগপত্রে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, সাধারণ জখম, গুরুতর জখম, অবহেলার কারণে মৃত্যু ঘটানো ও মালামল ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়।

২০১২ সালের ১০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়। ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি মামলাটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এরপর থেকে তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজাভোগ করছিলেন।

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
https://www.awaazbd.net/author/awaazbdonlinenews

অনলাইন ডেস্ক

ads