একটি বাতি ৯৮ হাজার টাকা, হরিলুট ঢাকা উত্তরে

২১০
হ’রিলুট ঢাকা উত্তরে

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে নতুন ভাবে অন্তর্ভুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের অবকাঠামো উন্নয়নে নেওয়া একটি প্রকল্পে প্রতিটি এলইডি বাতি কিনতে খরচ ধরা হয়েছে ৯৮ হাজার টাকা। ওই ১৮টি ওয়ার্ডের জন্য ১২ হাজার ২১৮টি এলইডি বাতি কেনা হবে।

এ জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২০ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রতিটি এলইডি বাতি কিনতে খরচ পড়বে ৯৮ হাজার টাকা, যা বর্তমান বাজারমূল্যের প্রায় দ্বিগুণ।

এমনকি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় চলমান একটি প্রকল্পে প্রতিটি এলইডি বাতি কেনাসহ স্থাপনে খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রস্তাবিত প্রতিটি এলইডি বাতিতে খরচ বেশি দেখানো হয়েছে ৩৮ হাজার টাকা।

শুধু এলইডি বাতিই নয়, ওই ১৮টি ওয়ার্ডের অবকাঠামো উন্নয়নে নেওয়া প্রস্তাবিত প্রকল্পে খাল উন্নয়ন, নর্দমা উন্নয়ন ও রাস্তা উন্নয়নেও অস্বাভাবিক খরচ দেখানো হয়েছে। ;ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজব্যবস্থার উন্নয়ন শিরোনামের প্রকল্পটির আওতায় বিভিন্ন খাতে যেসব খরচ দেখানো হয়েছে, তা সমজাতীয় প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য পূর্ণ নয়।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ২৫ কোটি টাকা। যেটি এযাবৎকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য সবচেয়ে বড় প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পুরো টাকাই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপনের কথা রয়েছে। এলইডি বাতির দাম নিয়ে কথা হয় বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ এলইডি বাতির চাহিদা মেটানো দেশীয় কোম্পানি সুপারস্টারের হেড অব করপোরেট ফয়েজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ৬০ থেকে ১০০ ওয়াটের এলইডি বাতির দাম ১০ থেকে ১৬ হাজার টাকার মধ্যে। ১০০ থেকে ১৫০ ওয়াট এলইডি তারা বিক্রি করেন ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা। গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় তাঁরা এলইডি বাতি স্থাপন করেছেন বলে জানান ফয়েজ উদ্দিন।

তার মতে, জার্মানি থেকেও যদি এলইডি বাতি আমদানি করা হয়, তবে ১০০ থেকে ১৫০ ওয়াটের সবচেয়ে ভালোমানের এলইডি বাতির দাম কিছুতেই ৯৮ হাজার টাকা হতে পারে না। দূরত্ব-উচ্চতা মাথায় রেখে এবং বজ পাত থেকে রক্ষা উপযোগী করেও যদি এলইডি বাতি বানানো হয়, সে ক্ষেত্রে প্রতিটি এলইডি বাতির দাম ৩০ হাজার টাকার মধ্যে থাকবে।

হেভেলস কম্পানির প্রতিনিধি রেজাউল জানান, শেরপুর পৌরসভায় ৬০ ওয়াটের এলইডি বাতি তাঁরা বিক্রি করেছেন সাত থেকে ১০ হাজার টাকায়। বাংলাদেশে বর্তমানে ১০০ থেকে ১৫০ ওয়াটের মধ্যেই এলইডি বাতি বসানো হয়।

এ ছাড়া উত্তর সিটির ১৮টি ওয়ার্ডের অবকাঠামো উন্নয়নে অন্যান্য খাতেও যেসব খরচ দেখানো হয়েছে, তাতেও অস্বাভাবিক খরচ দেখানো হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ২৮ কিলোমিটার খাল উন্নয়ন করা হবে। এ জন্য খরচ ধরা হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রতি কিলোমিটার খাল উন্নয়নে খরচ পড়বে প্রায় তিন কোটি টাকা।

আর ২৩৪ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হবে। এ জন্য খরচ ধরা হয়েছে এক হাজার ৫১ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রতি কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়নে খরচ হবে সাড়ে চার কোটি টাকা। রাস্তা নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হবে ১৮৩ কিলোমিটার।

খরচ ধরা হয়েছে ৭৪৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রতি কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়ন ও নির্মাণে খরচ হবে চার কোটি টাকা। এর বাইরে ১০ জন কর্মকর্তা বিদেশ ভ্রমণে যাবেন। এর জন্য খরচ ধরা হয়েছে এক কোটি টাকা। প্রকল্পটির আওতায় ৭০ একর জমি অধিগ্রহণ ও স্থাপনার ক্ষতিপূরণ বাবদ খরচ ধরা হয়েছে এক হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা।

এলইডি বাতির দামের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘৯৮ হাজার টাকার মধ্যে এলইডি বাতি কেনা, পোল, কেবল, সুইচ, আর্থিং সব খরচই ধরা হয়েছে। তাই যে দাম ধরা হয়েছে, সেটি যৌক্তিক।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সমজাতীয় প্রকল্পে প্রতিটি এলইডি বাতি কেনাসহ স্থাপনে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে, বিষয়টি তুলে ধরলে রফিকুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন চীন থেকে নিম্নমানের এলইডি বাতি আমদানি করেছে। আমরা ইউরোপ থেকে এলইডি বাতি আমদানি করব।

রেদওয়ানুল/আওয়াজবিডি

আওয়াজবিডি ডেস্ক
আওয়াজবিডি ডেস্ক
https://www.awaazbd.net/author/awaaz-news

অনলাইন ডেস্ক

ads