আক্রান্তে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র: পুনরায় লকডাউনের কথা ভাবছেন রাজ্য গভর্নররা

গ্রেগ অ্যাবোট

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গত ১১ দিনের মধ্যে ৭ দিনই সংক্রমণের ভয়াবহতা আগের দিনের রেকর্ড ভেঙেছে। সর্বশেষ শুক্রবারও ৬৫ হাজার মানুষ সংক্রমিত হবার ঘটনায় বিভিন্ন রাজ্যে দুশ্চিতার পাহাড়।ঘুম হারাম সিটি মেয়র ও রাজ্য গভর্নরদের।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে যে হারে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ-যা ভাবনারও অতীত। একইভাবে এসব এলাকায় মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সংক্রমিত হয় ৫৯ হাজার ৮৮৬ জন। শুক্রবার তা ৬৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়।শনিবার ৬৩ হাজারেও বেশি।

জর্জিয়া, ইউটাহ, মন্টানা, নর্থ ক্যারোলিনা, আইওয়া এবং ওহাইয়ো রাজ্যে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় টেক্সাস, ফ্লোরিডা, আরিজোনা, জর্জিয়ার কিছু এলাকায় পুনরায় লকডাউনের কথা ভাবছেন সিটি ও রাজ্য প্রশাসন।

টেক্সাসের গভর্নর গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোট করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন। করোনাবিষয়ক এই পরিস্থিতির কথা জানিয়ে গ্রেগ বলেন, মাস্ক না ব্যবহার করলে আবার লকডাউন জারি করা হবে।টেক্সাসে বুলেট ট্রেনের গতির মতো ভাইরাস ছাড়াচ্ছে। সর্বশেষ রাজ্যটি ২ লাখ ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজারেরও বেশি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও একই পরামর্শ দিয়েছেন যে, লকডাউনের বিকল্প নেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে। এপ্রিলের ২৪ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৬ হাজার ৭৩৮। তারপরই কমতে শুরু করেছিল সর্বত্র। যদিও দৈনিক গড়ে ২০ হাজার জন করে সংক্রমিত হয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চাপে যেসব রাজ্য লকডাউন শিথিল করা হয়েছে, সেগুলোতে জুনের মাঝামাঝি অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু হরে।

চলতি সপ্তাহে আলাবামা, আরিজোনা, ফ্লোরিডা, মিসিসিপি, নর্থ ক্যারোলিনা, সাউথ ডাকোটা, টেক্সাস এবং টেনেসিতে প্রতিদিনই সংক্রমণের সংখ্যা আগের দিনের রেকর্ড ভেঙেছে। সে সময়ে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার সে সংখ্যা ছিল ৬০৮। অথচ জুলাইয়ের শুরুতে সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ৪৭১ জন। যদিও মধ্য এপ্রিলে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ২২০০ জনেরও বেশি ছিল সারা আমেরিকায়। সে সময়ে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়াসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহে মহামারীর আকার ধারণ করেছিল।

এদিকে, হোয়াইট হাউজের করোনা টাস্কফোর্সের অন্যতম সদস্য ড. ডেবরাহ এল বার্ক্স গভীর উদ্বেগের সাথে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন শীঘ্রই করোনায় আক্রান্তদের মৃত্যুর সংখ্যা আরও চরমে উঠতে পারে, যদি স্বাস্থ্যবিধি বজায় না রাখা হয়।

শাহ আহমদ সাজ
শাহ আহমদ সাজ
https://www.awaazbd.net/author/awaaz-usa

শাহ আহমদ সাজ ১৯৮৭ সালে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জন্মগ্রহন করেন। শিক্ষা জীবনের শুরু ঢাকার সানরাইজ প্রি ক্যাডেট এন্ড কলেজে। তারপর ২০০৪ সালে কুলাউড়ার জালালাবাদ হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ২০০৬ সালে মদন মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ২০০৭ সালে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি অনার্সে ভর্তি হন।এরপর ইনফরমেশন টেকনোলজিতে পড়ালেখার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমান এবং ক্রাউন ইন্টারন্যাশনাল কলেজে ব্যাচেলর শেষ করেন। বর্তমানে সপরিবারের যুক্তরাস্ট্রে বসবাসরত শাহ আহমদ, ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য ও সৃজনশীল সবধরনের কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে আওয়াজবিডি ও সাপ্তাহিক আওয়াজবিডির প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশের দায়িত্ব পালন করছেন।শাহ আহমদ বাংলাদেশ ডন-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।

ads