‘ড্রিমার’ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প!

৩৩২
ট্রাম্প

শিশু বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দিয়ে দ্রুতই একটি নির্বাহী আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তরুণ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রকল্পটি ড্রিমার বা ডাকা নামে পরিচিত, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নেওয়া এই উদ্যোগের এত দিন বিরোধিতা করে আসছিলেন ট্রাম্প।

ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইব্যালস তথা ডাকা অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়া নিয়ে ট্রাম্প আচমকা ঘোষণা দিলেও দ্রুতই এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবনের এক মুখপাত্র জানান, এমন সিদ্ধান্ত এখনই আসছে না।

অভিবাসন সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসে আলোচনা তোলার সম্ভাবনা আছে। ডাকা তথা ড্রিমার অভিবাসীদের নাগরিকত্বের বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম টেলিমুন্দো নোটিসিয়াসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, আমি একটি বড় ধরনের নির্বাহী আদেশ দেব। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটা করার আমার ক্ষমতা আছে। ডাকাদের এ দেশের নাগরিকত্ব বানাব।

শিশু বয়সে যারা কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বাস করতে, কাজ করতে বা পড়াশোনা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ডাকা বা ড্রিমার অভিবাসী হিসেবে পরিচিত। এদের অধিকাংশই লাতিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে আসা। ২০১২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওমাবা তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্যোগটি নিয়েছিলেন। ওবামা সরকারের নেওয়া এই প্রকল্প বাতিল করে দেওয়ার চেষ্টা করেন ট্রাম্প।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বাধার সামনে তা সম্ভব হয়নি। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত এক রুলিংয়ে জানায় ডাকা বাতিলের সরকারের কোনো জোরালো আইনি যুক্তি নেই এবং এটা বহাল রাখার নির্দেশনা দেয় আদালত। আদালত থেকে ধাক্কা খাওয়ার পর বিষয়টি সুর বদলালেন ট্রাম্প।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানালেন, নতুন অভিবাসন নির্দেশনায় ড্রিমারদেরও অন্তর্ভুক্ত করবেন তিনি- আমরা নাগরিকত্ব দেওয়ার একটা রাস্তা তৈরি করব। আসছে নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও লড়তে যাচ্ছেন ট্রাম্প। অভিবাসী নীতি সীমিতকরণ, চলমান বর্ণবাদ আন্দোলন, করোনা মহামারি মোকাবিলায় ব্যর্থতা ইত্যাদি কারণে ক্ষমতা ধরে রাখার সম্ভাবনা অনেকটাই নড়বড়ে। আসছে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেনের সঙ্গে কঠিন লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে হবে তাকে।

ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেই ট্রাম্প ডাকা অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে থাকতে পারেন বলে অনেকের ধারণা। এদিকে ডাকাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরেই বিবৃতি দিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জুড ডির বলেছেন, প্রেসিডেন্ট আজ যে ঘোষণা দিয়েছেন সেটা হলো-যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় যোগ্যতাভিত্তিক অভিবাসন নীতি নিয়ে একটা নির্বাহী আদেশ দেওয়ার জন্য তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

তার দীর্ঘ বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, ডাকা নিয়ে আইনি সমাধান নিয়ে আলোচনা করতে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গেও আলোচনা করতে ইচ্ছুক, সেখানে শক্তিশালী সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ও যোগ্যতাভিত্তিক স্থায়ী অভিবাসন নীতি সংস্কার বিষয়গুলোর সাথে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

আওয়াজবিডি ডেস্ক
আওয়াজবিডি ডেস্ক
https://www.awaazbd.net/author/awaaz-news

অনলাইন ডেস্ক

ads