আবারও করোনার হানা, মেলবোর্ন লকডাউন

মেলবোর্ন করোনা

করোনাভাইরাসের আবার সংক্রমণ ঘটায় নতুন করে লকডাউন আরোপ করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মেলবোর্নে। দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণ যাতে ভয়াবহ রূপে ছড়িয়ে না পড়ে শহরটিতে ছয় সপ্তাহের জন্য এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকরী করা হয়েছে লকডাউন নির্দেশনা। আগামী ছয় সপ্তাহ জনসাধারণকে ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

মেলবোর্ন শহরের অঙ্গরাজ্য ভিক্টোরিয়া কার্যকরীভাবে সিল করে দেওয়া হয়েছে, যাতে সেখান থেকে করোনাভাইরাস অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়তে পারে। কিন্তু বুধবারও ভিক্টোরিয়ার পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলসের সীমান্ত অঞ্চলে পর্যটক ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এতে লকডাউন প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পরিণত হয় কি-না সে শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এবিসিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রোগ বিশেষজ্ঞ ম্যারি-লুইস ম্যাকলস।

নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রধান প্রশাসক গ্লাডিস বেরেজিকলিয়ান জানিয়েছেন, এরই মধ্যে সীমান্তবর্তী শহরে আলবারিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দুজনকে পাওয়া গেছে। ভিক্টোরিয়ায় ভ্রমণ ও যোগাযোগ নিয়ে নিউ সাউথ ওয়েলসবাসীদের সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। ভিক্টোরিয়া থেকে নিজেদের সব ভ্রমণকারীদের চলে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছে কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষও।

সেখান থেকে ফেরার পর তাদেরকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। মেলবোর্নে দ্বিতীয়বারের মতো লকডাউনের সিদ্ধান্ত সেখানকার অর্থনৈতিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই লকডাউনে অর্থনীতিতে প্রায় ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি হতে পারে জানিয়েছেন মেলবোর্নের কর্মকর্তারা।

লকডাউনে রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফেগুলোর কার্যক্রম সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। জিম, বিউটি স্যালন ও সিনামা হলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দরকারি কাজ, ব্যায়াম, প্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজন ছাড়া জনসাধারণকে বাইরে না বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।

ফের সংক্রমণের কারণে লকডাউনের কঠিন কঠিন শর্ত আরোপ করা হলেও তাতে সমর্থন দিচ্ছেন মেলবোর্নের অনেক বাসিন্দা। বানি কুমার নামে একজন এএফপিকে বলেন, “লকডাউন খুব প্রয়োজন ছিল। অন্যথায় সংক্রমণ কমানো যাবে না। অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে আমরা সবাই বের হতে পারব বলে আশা করি। ”

উল্লেখ্য, গত শনিবারের দিকে মেলবোর্নে ক্লাস্টার সংক্রমণের খবর আসে। যেসব পাবলিক হাউজিংগুলোতে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে সেখানে প্রায় ৩ হাজার মানুষকে তাদের অ্যাপার্টমেন্টে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সেখানে গণহারে টেস্ট চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেলবোর্নে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজারের নিচে। মৃত্যু হয়েছে ১০৬ জনের।

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
https://www.awaazbd.net/author/oeazq8
ads