ডিসেম্বরের ভেতর ভ্যাকসিন আনতে চায় গ্লোব বায়োটেক

১৪৪
আসিফ মাহমুদ

চলতি বছরের ডিসেম্বরের ভেতরেই ভ্যাকসিন আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক। প্রিলিমিনারি অ্যানিমেল ট্রায়ালে সফলতা দাবি করা কোম্পানিটির ভ্যাকসিন এখন রেগুলেটেড অ্যানিমেল ট্রায়ালের পর্যায়ে আছে।

গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডা. আসিফ মাহমুদ মঙ্গলবার সকালে বলেন, আমরা এভাবে টার্গেট সেট করেছি। সবকিছু ঠিক থাকলে আশা করছি সেপ্টেম্বরে হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করতে পারবো। গ্লোব বায়োটেক জুনের ১০ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত পাঁচটি খরগোশের ওপর প্রিলিমিনারি ট্রায়াল চালায়। অ্যানিমেল মডেলের এই ট্রায়ালে কভিড-১৯ প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি পাওয়ার দাবি করেছেন তারা।

দেশে সম্ভাব্য ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ভেতর উচ্ছ্বাস যেমন দেখা যাচ্ছে, তেমনি কেউ কেউ এই প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। ভারতের বেসরকারি সংবাদ সংস্থা আইএএনএস এবং বিজনেস ইনসাইডার ইন্ডিয়ায় এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদের একটি সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে। সেখানে তিনি গ্লোব বায়োটেক কর্মকর্তাদের ভ্যাকসিন সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন।এই টিকা আবিষ্কারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন আমাদের সিইও ড. কাকন নাগ এবং সিওও ড. নাজনীন সুলতানা। তারা এ বিষয়ে অভিজ্ঞ।

ড. কাকন এইচআইভি ভ্যাকসিন প্রজেক্টের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা তিনি এখানে ব্যবহার করছেন। আমরা সরাসরি তাদের তত্ত্বাবধানে কাজ করছি। কাকন নাগ প্রতিষ্ঠানের সিইও হলেও গত বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে তাকে এবং ড. নাজনীন সুলতানাকে দেখা যায়নি। সরাসরি তারা কথাও বলছেন না খুব একটা।

গ্লোব বায়োটেকের আরেক বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, আমাদের সিইও এবং সিওও মার্চে কানাডায় গিয়ে আটকা পড়েছেন। করোনার কারণে আসতে দেরি হচ্ছে। এখন তো ডিজিটালাইজেশনের যুগ। সেখান থেকেই তারা আমাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। সেভাবেই ভ্যাকসিন তৈরির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছি। আসিফ এবং মহিউদ্দিন ছাড়াও এই গবেষণাকাজের মূল ভূমিকায় আছেন আরও ৪ বিজ্ঞানী- সমীর কুমার, জুয়েল চন্দ্র বাড়ৈ, মোঃ জিকরুল ইসলাম এবং মোঃ মাকসুদুর রহমান খান। প্রিলিমিনারি ট্রায়ালের পর কয়েক সপ্তাহের ভেতরে রেগুলেটেড অ্যানিমেল ট্রায়ালে যাবে গ্লোব বায়োটেক। এরপর সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করতে চান তারা।

কোন প্রক্রিয়ায় তারা ভ্যাকসিনটি তৈরি করছেন, কীভাবে এর কার্যকরীতা সম্পর্কেই বা নিশ্চিত হলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা পরীক্ষার জন্য সারফেইস প্লাজমন রিসোনেন্স (এসপিআর) মেথডে গিয়েছি। বাংলাদেশসহ গোটা পৃথিবীর সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করেছি। ভালো অ্যান্টিবডি পেয়েছি। এই অ্যান্টিবডি আমাদের অ্যান্টিজেনের সঙ্গে শক্তিশালী কার্যক্ষমতা দেখিয়েছে। আমরা সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি ক্যান্ডিডেট উপস্থাপন করেছি। কিন্তু কোনো পাবলিকেশনের জন্য এখনো পেটেন্ট করা হয়নি; তার আগে মূলত আমরা ট্রায়ালের ডেটা প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। রেগুলেটেড ট্রায়াল হলেই আমরা হিউম্যান ট্রায়ালের আবেদন করবো। রেগুলেটেড ট্রায়ালের আগে কী অ্যানিমেল ট্রায়ালের কার্যকরীতার বিষয়ে দাবি করা যায়?

এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, বিষয়টি তা নয়। আমরা প্রিলিমিনারি অ্যানিমেল ট্রায়ালেই অ্যান্টিবডির প্রমাণ পেয়েছি। এখন এটাকে রেগুলেটেড ট্রায়ালে কনভার্ট করা দরকার। কারণ হিউম্যান ট্রায়ালের অনুমোদন পাওয়ার জন্য আমাদের এটা নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা দিতে হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে গ্লোব বায়োটেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে কি না, অথবা কোম্পানি এখনো যোগাযোগ করেছে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কেউ করেছেন কি না, আমার জানা নেই। রেগুলেটেড ট্রায়ালে গেলেই আমরা অবশ্যই যোগাযোগ করবো।

সেপ্টেম্বরে হিউম্যান ট্রায়াল শুরু হলে ডিসেম্বর নাগাদ তিনটি ধাপ শেষ করা সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে আসিফ মাহমুদ বলেন, আমি বিশ্বাস করছি সম্ভব। সব কিছু ঠিক মতো এগোলে হওয়ার কথা। আমরা ইতিমধ্যে রেগুলেটেড অ্যানিমেল ট্রায়ালের গাইডলাইন তৈরি করেছি। ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যাবে। এরপর কোম্পানি বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) কাছে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ট্রায়ালের অনুমোদন চাইবে। সংবাদ সম্মেলনে ভ্যাকসিন তৈরির ঘোষণা দিতে এসে চোখের পানি ফেলতে দেখা যায় এই আসিফ মাহমুদকে। এখন দিনের অধিকাংশ সময় তার ল্যাবেই কাটছে।

ফোনে খুব একটা পাওয়া যায় না। সেদিনের কান্নার স্মৃতি স্মরণ করে এই বিজ্ঞানী বলেন, পৃথিবীর যে অবস্থা সেটি কল্পনা করে আবেগ ধরে রাখতে পারিনি। তাই হয়তো অমন হয়েছে। আমার প্রেজেন্টেশনের নোটে এমন কিছু বিষয় ছিল যা পড়তে পড়তে চোখ ভিজে যায়। মনে হয়েছে মানুষকে রক্ষা করতেই হবে।

আওয়াজবিডি ডেস্ক
আওয়াজবিডি ডেস্ক
https://www.awaazbd.net/author/awaaz-news

অনলাইন ডেস্ক

ads