দুই পরিবারকে সমাজচ্যুত ও যুবতী মেয়েদের শ্লীলতাহানীর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

নবীগঞ্জে গ্রাম্য মোড়লদের অমানবিকতা

২০০
সম্মেলন

নবীগঞ্জ উপজেলার দুটি পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে উপজেলার দিঘলবাক ইউনিয়নের কারখানা গ্রামের
প্রয়াত ইউপি মেম্বার (সাবেক) আব্দুল হেকিমের পরিবারসহ দুটি পরিবারকে।
এদিকে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে দুটি পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগ
এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগি পরিবারের সদস্যরা। গ্রাম্য মোড়লদের
বিরুদ্ধে উঠে সমাজচ্যুত ও যুবতী মেয়েদের শ্লীলতানীর মত অভিযোগ।

বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১২ টায় নবীগঞ্জ প্রেস-ক্লাবে এসে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন আব্দুল আউয়াল নামে এক
ব্যক্তি। তার বাড়ি নবীগঞ্জ উপজেলার দিঘলবাক ইউনিয়নের কারখানা গ্রামে।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মধ্যে আব্দুল আউয়াল বলেন, আমি একজন অসুস্থ রোগী তবুও আজ এক বুক ভরা কষ্ট যন্ত্রণা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আপনাদের
স্মরণাপন্ন হলাম। সাংবাদিক বন্ধুগণ আমি একজন ব্যবসায়ীর সন্তান ও একজন
সামাজিক বিচারক ও বার বার নির্বাচিত সাবেক মেম্বারের সন্তান। আমার মাতা ও
তিনবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন। আজ এই পৃথিবীর বুকে আমার বাবা-মা কেউ বেচে নেই। বর্তমানে এতিম হিসেবে বসবাস করছি। আমি একজন কৃষকের সন্তান। বাবার রেখে যাওয়া প্রায় ১১ একর জমি রয়েছে। সেগুলো চাষাবাদ করেই পরিবারের ভরণ পোষণ করছি। পাশাপাশি আমার ভাই একজন জীবিকার তাগিদে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। আমি একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। আমি কখন ও রাষ্ট্র বা সমাজ বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। আমার পরিবার সব সময় দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করছি।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমাদের গ্রাম্য মোড়ল ও প্রভাবশালী মৃত হাজী আকবর উল্লাহর পুত্র খালিছ মিয়া ও তার ভাতিজা আবু ছালেহ জীবন গংরা আমাদের ৪ কেদার আমন জমি জবর দখল করতেছে। তারা আইনের ধার ধারে না। ক্ষমতার দাপটে প্রভাব খাটিয়ে তাদরে লাঠিয়াল বাহিনী কর্তৃক একের পর এক অপকর্ম করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। এতেই তারা শান্ত হয়নি। গত ১৫ জুন খালিছ মিয়া ও আবু ছালেহ জীবন গণজমায়েত করে গ্রাম্য পঞ্চায়েত ডেকে আমাদের সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়। যা জঘন্যতম রাষ্ট্রবিরোধী কাজ। সর্বনাশা সিদ্ধান্তে তারা উপনীত হয়ে আমরা দুটি পরিবারকে সমাজচ্যুত একঘরে করে রাখে। এই সিদ্ধান্ত দেওয়ার পরই খালিছ মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে আমার চাচা ফয়জুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানায় আমরা গ্রামের পাচের বাদ। আমরা দুটি পরিবারের কেউ গ্রাম্য পঞ্চায়েতের রাস্তা অথবা সরকারি রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারবো না। এমন কি মালিকানা জায়গায় ও চলাচল করতে পারবো না।

আবু ছালেহ জীবন আব্দুল আউয়ালের চাচা ফয়জুর রহমানকে হত্যার হুমকি ও দেন বলে অভিযোগে বলা হয়। অভিযোগ পাঠে আরো বলা হয়, চলতি মাসের (১৮ জুন) তারিখে আমার কৃষিকাজে ব্যবহৃত দুটি নৌকা সরকারি খালে রক্ষিত ছিল। গ্রাম্য মোড়ল খালিছ মিয়া, আবু ছালেহ জীবনের নেতৃত্বে তারা আমার নৌকাগুলো ভেঙে ফেলেন। এবং একটি বেইলজাল বোয়াইল্লা নদী থেকে বাঁশসহ তুলে নেয়। তারা জালের বাঁশ ভেঙে নদী থেকে জোরপূর্বক মারপিট করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তার কিছুক্ষণ পর আমার চাচার ঘর দরজা ভেঙে মেয়েলোকদের মারপিট করে এবং শ্লীলতাহানী করে। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করতে গেলে আবু ছালেহ জীবন বাধা দেয়। ভুক্তভোগি এই পরিবারের লোকজন প্রশাসনের কাছে সুবিচারের জন্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দাবি জানান।

ads