কোভিড-১৯: মূল্যবোধের অবক্ষয়ের নতুন মাত্রা

অনলাইন ডেস্ক
মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ
০১ জুলাই ২০২০, ০৬:২২ পূর্বাহ্ণ
৫৪১
হেদায়েত উল্লাহ

মানুষের জীবনের সবচেয়ে অনিবার্য বাস্তবতা হলো মৃত্যু। ‘জীবন মানেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী।’ (আল-কোরআন-২৯:৫৭) চীনের উহানীয় কোভিড-১৯ এর দানবীয় রূপের সীমাহীন তাণ্ডবে বাংলাদেশের মুসলিম সমাজ ব্যবস্থায় মানবিকতার আস্তরে যে তীব্রতর অমানবিকতার ছোবল পড়েছে; তা লণ্ডভণ্ড করে দিচ্ছে শতবছরের লালিত ও বহমান সামাজিক গভীর বন্ধনের শক্তিশালী ভীতকে।

যার কারণে ভেঙে পড়েছে সহমর্মিতা ও ভালোবাসার মোহনীয় ও আবেগীয় চেতনা। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথেই তার নজির দেখা দিতে শুরু করেছে পুরো দেশজুড়ে। চরম স্বার্থপরতার মোড়ক থেকে বের হতে শুরু করেছে মানুষের ভেতরে লুকানো ও সুপ্তভাবে বসবাসকারী স্বার্থান্ধতার কদর্য রুপ।

পৃথিবীতে কেউ চিরস্থায়ী নয়; এ অনবদ্য শাশ্বত ঐশী বাণী ভুলে মানুষ পারিবারিক স্বর্গীয় সম্পর্ক ত্যাগ করে নিজেই কেন যেন বেঁচে থাকতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আপন রক্তের সাথে এ অপ্রত্যাশিত আচরণ কী মর্মান্তিক!কতোটা নিদারুণ; তা ভাবলে গা শিউরে উঠে। অথচ জীবন আল্লাহ প্রদত্ত একটি দান।

‘পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ তায়ালা মৃত্যু ও জীবন দিয়েছেন-কে কাজে-কর্মে উত্তম’ তা দেখার জন্য ‘ (আল-কোরআন-৬৭:২) এ বাণী থেকে মানুষ কত দূরে। দেখুন, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুচিয়াবাড়ি গ্রামের পাঁচ সন্তানের জননী ফুজলি বেগমকে বাঁশঝাড়ের নিচে রাস্তায় ফেলে গিয়েছিল তার সন্তানরা। এ ফুজলি বেগমই স্বপ্ন দেখে খুশি হয়ে পাঁচ পাঁচটিবার পঞ্চাশ মাসের মতো সময় জটর জ্বালার তীব্র যন্ত্রণা ও কাতরতাকে হাসিমুখে বরণ করেছিলেন। জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যুর কস্টকে অনেক কাছ থেকে দেখেছেন। সন্তানেরা এবার রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়ার কস্টটা তার কাছে সীমাহীন মর্মপীড়ার ছিলো। এর চেয়ে মরে যাওয়াই তার কাছে হয়ত অনেক স্বস্তির ছিল।

অন্যদিকে কাশিয়ানীর ঘটনাটা তার উল্টো। করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ার পর মা বাবা তার আদরের সন্তানকে ফেলে গেছে বাঁশ ঝাড়ে। ‘জন্মদাতা মা বাবা করোনায় আক্রান্ত সন্তানকে কিছু টাকা ,পানি এবং পাউরুটি দিয়ে রাতের অন্ধকারে ফেলে গেলেন বাঁশঝাড়ে। প্রতিদিনের মতোই ফজরের সালাত শেষ করে হাঁটছিলেন এক বৃদ্ধ মা। হঠাৎ দূরে কাপড় মোড়ানো কি একটা যেন তার দৃষ্টিগোচর হল। দেখতে পেলেন একজন কিশোর মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে। উনি প্রতিবেশীদের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করল।

প্রশাসনের তড়িৎ হস্তক্ষেপে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সহযোগিতায় দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স এনে ১৪ বছরের এই বালককে নেয়া হয় কাশিয়ানী হাসপাতালে। পরে জানা যায় যে, তার নাম রাকিব,গ্রাম- মল্লিকপুর, উপজেলা- লোহাগড়া, চট্রগ্রাম। তার জন্মদাতা মা-বাবা ছেলেটির করোনা উপসর্গ থাকায় গভীর রাতে তাকে এ বাঁশঝাড়ে রেখে যায়। ছেলেটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কি ভয়াবহ নির্মমতা! আবার সুনামগঞ্জে অন্য জেলা থেকে আসা গার্মেন্টকর্মীর বাড়িতে যাওয়ায় করোনা হয়েছে সন্দেহ করে বৃদ্ধা মাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন সন্তানরা। অমত্য বালা দাস (৯০) দুই ছেলের জন্মের পর স্বামীকে হারান। কষ্ট করে ছেলেদের মানুষ করেন। দুই ছেলে কৃষি কাজ করলেও তারা আবস্থাপন্ন। ছেলেদের দাবি, করোনার মহামারির মধ্যে অন্য জেলা থেকে আসা মানুষের বাড়িতে যাওয়ার শাস্তি স্বরূপ তাকে বাড়ি থেকে করে দেওয়া হয়েছে। মমতার গভীর বন্ধন আজ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে!

এছাড়াও টাঙ্গাইলের সখীপুরে করোনা সন্দেহে এক নারীকে জঙ্গলে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে তার স্বামী-সন্তানেরা। পঞ্চাশোর্ধ্ব মা সংসারের বোঝা ছিলেন না। ছেলে, দুই মেয়ে, মেয়েদের জামাই, নাতি-নাতনিদের রান্না করে খাওয়াতেন। বাচ্চাদের দেখাশোনাও করতেন। কারণ সবাই চাকরি করতো। সেই মায়ের জ্বর-স্বর্দি-কাশি হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা করারও প্রয়োজনবোধ করলেন না সন্তানেরা। নিজের পেটে ধারণ করা সন্তানরা সন্ধ্যার সময় মা-কে নিয়ে বনের মধ্যে ফেলে আসলেন। রাতে হয়তো অসুস্থ এই মাকে শেয়াল-কুকুরেই টেনেহিঁচড়ে খেয়ে ফেলতো। সন্তানদের ফেলে যাওয়া মা-কে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরীক্ষায় মেলে ফেলে যাওয়া মা-র করোনা নেগেটিভ।

শুধু তাই নয়, পাবনার বেড়া উপজেলার দুর্গম চর চরসাফুল্যা গ্রামে করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকায় কে বা কারা মানসিক ভারসাম্যহীন এক বৃদ্ধকে (৬৫) ফেলে রেখে যায়। বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে ভর্তি করেন। পরম আপনজন পরকালে জবাবদিহীতার ভয়ে নিজেদের ভাই-বোন, পিতা-মাতা অর্থাৎ রিলেটিভদের থেকে দূরে সরে যাবে মর্মে আলকুরআনে ঘোষিত হয়েছে। (আলকুরআন-৮০:৩৪-৩৭) সে কঠিন মুহূর্তটা আজ বাস্তবিক হয়ে ধরা দিয়েছে। তারপরও মানুষ ইসলাম থেকে গাফিল। আলকুরআনের মর্মবাণী চেতনায় আঘাত হান না, কতোটা জাহিলিয়্যাতে ঠাসা আস্ত গেড়েছে দেহ-মনে। মানবিকতা ও মানবতা আজ এক করোনা ভাইরাসের ভয়ে জগত থেকে বহুদূরে বিতাড়িত।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে সাভারে এক বৃদ্ধা মাকে ফেলে পালিয়েছে তার সন্তানরা। সমাজের কাছে হেয় হবেন এই ভয়ে সন্তানদের পরিচয়ও প্রকাশ করছেন না এই মা। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় ওই বৃদ্ধার দায়িত্ব নিয়েছেন সাভার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

গত ২১ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত সন্দেহে নারায়ণগঞ্জ থেকে এনে মাথার চুল কেটে সাভারে এক বৃদ্ধাকে ফেলে পালিয়েছে তার সন্তানরা। সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই নারীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। এদিকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে পিতাকে ফেলে পালিয়েছে সন্তানরা। সন্তানরা বাবার লাশ নিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সমাজের অনেক জায়গায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে হর হামেশা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি অসুস্থ পিতাকে মাঠের মাঝখানে রেখে যাওয়ার ঘটনা। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে। টঙ্গীতে এক নারী অসুস্থ হয়ে রাস্তায় মারা গেলেও করোনা সন্দেহে তার মরদেহ ধরেনি সন্তানসহ এলাকাবাসী। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়কেই পড়েছিল ওই নারীর লাশ। মায়ের মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ছেলেমেয়ে এবং তার স্বজনরা মরদেহ নিতে এগিয়ে আসেনি। আরও বেশ কিছু ঘটনায় মৃত স্বজনের লাশ রেখে চলে গেছে আত্মীয়রা। পরিবার খবর নেয়নি। দাফন কাফনে এগিয়ে আসেনি। পুলিশ লাশ তুলে নিয়ে দাফন করেছে। সন্তানেরা ধারে কাছে না আসায় অনাত্মীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানাজা পরিয়ে লাশ দাফন করছেন, ইতোমধ্যে এমন নজিরও স্থাপিত হয়েছে।

করোনার ভয়ে সন্তান যখন মা-বাবাকে রাস্তায়-মাঠে-চরে ফেলে যাচ্ছে, মৃতদেহ গ্রহণ করতে, দাফন করতে অস্বীকার করছে তখন মা-বাবার স্নেহের কাছে করোনা পরাজিত হয়েছে। চট্টগ্রামের পটিয়ায় করোনা আক্রান্ত ছয় বছর বয়সী শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। হাসপাতাল থেকে তার লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সে মৃত সন্তানের শিয়রে বসে থাকা মা আনমনে মৃত সন্তানকে আদর করছিলেন।

মাথায়, কপালে হাত বুলাচ্ছিলেন। সন্তানের এভাবে চলে যাওয়া মা-কে যেন জীবন-মৃত্যুর ব্যবধান ভুলিয়ে দিয়েছে। চরম ঝুঁকির মাঝেও সন্তানকে ছেড়ে না গিয়ে আদর করার এই দৃশ্য অনেকের চোখ ভিজিয়ে দিয়েছে। মৃত শিশুটির হতভাগ্য বাবাও সন্তানটিকে ছেড়ে যেতে পারেননি। দাফন করার সময় বুকে আগলে লাশ নিয়ে যান কবরে। অথচ আদরের সন্তানের লাশের ভেতরে ঘাতক করোনা লুকিয়ে আছে। কোনও সুরক্ষা ছাড়াই শেষবারের মতো সন্তানকে বুকে আগলে ধরেছিলেন বাবা। ঢাকা মেডিকেলে করোনা শনাক্ত হওয়ায় এক শিশুকে নিতে হবে কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে। কিন্তু করোনা আক্রান্ত ওই শিশুকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। শেষ পর্যন্ত শিশুর বাবা তার সন্তানকে কোলে তুলে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে উঠেন।

করোনাভাইরাসের প্রকোপে গোটা ভারত যখন লকডাউনে তখন প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে অন্ধ্র প্রদেশ আটকে পড়া ছেলেকে থেকে ফেরাতে স্কুটি চড়ে প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ছেলেকে ফিরিয়ে আনেন তেলঙ্গানা রাজ্যের এক মা রাজিয়া সুলতানা। ভারতের কেরালার আরেক মা অসুস্থ ছেলেকে দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে যোধপুর গেলেন পঞ্চাশ বছর বয়সী মা সিলাম্মা ভাসান। ছেলের গুরুতর অসুস্থতার কথা জানার পর মা কেরালা থেকে তামিলনাড়ু, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র ও গুজরাট রাজ্য ঘুরে তিন দিন ধরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাজস্থানে অসুস্থ ছেলের কাছে পৌঁছান।

করোনা আতঙ্কে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। বিশ্বজুড়ে প্রতিদিনই চলছে মৃত্যুর মিছিল। এরই মাঝে গত ২১ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, প্রাণঘাতী করোনার ভয়ানক পরিস্থিতি দেখা এখনও বাকি আছে। ইউরোপ-আমেরিকার তুলনায় বাংলাদেশে করোনা এখনও মহামারি রূপ নেয়নি। এরই মাঝে সন্তানরা মা-বাবাকে রাস্তাঘাটে ফেলে যাচ্ছে, লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

আল্লাহ না করুন মহামারি আকার নিলে তখন মা-বাবাদের কী হবে? যারা মা-বাবাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন, লাশ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং যাদের মা-বাবাকে রাস্তায় ফেলে আসার সম্ভাবনা আছে তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, পৃথিবীর ৭৮০ কোটি মানুষের মধ্যে ৩০ জুন পর্যন্ত ১ কোটি ৫ লাখ ১৩ হাজার, মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজারের কিছু বেশী,৫৭ লাখ ২৭ হাজার। আর আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে ১ হাজার ৮ শত ৪৭ জন এ পর্যন্ত মারা যান। কেউ ঘরে বসে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে, আবার কেউ বাইরে গিয়ে কিংবা করোনায় আক্রান্তের সেবা-শুশ্রুষা করেও দিব্যি ভালো আছেন। কেউ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছেন, কেউ সুস্থ হয়ে ওঠছেন। আসলে নির্ধারিত সময় আসলেই মানুষকে মরতে হবে। এটা যেভাবেই যে নামেই এবং যে রোগেই হউক না  কেন।

আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন, “বল, মৃত্যু হতে তোমরা পলায়ন করছে, তা অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। তার পর তোমাদের অদৃশ্য ও দৃশ্য সম্পর্কে পরিজ্ঞাত আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তারপর তিনি তোমাদের জানিয়ে দিবেন যা তোমরা করতে।”(৬২:৮) আলোচ্য আয়াতে অনিবার্য মৃত্যুর কথা তুলে ধরা হয়েছে; তার থেকে পলানোর কোন সুযোগ কারো নেই। যে কর্মকাণ্ড মানুষ প্রতিনিয়ত করছে সে সম্পর্কে তাকে দয়াময় আল্লাহ পরকালে জানিয়ে দিবেন। সুতরাং কর্ম ভাবনায় বিভোর হওয়া উচিৎ প্রত্যেক মুমনি-মুসলিমের। কারণ যে কোন ভাবে যে কোনো সময়ে অনিবার্য মৃত্যুর সাক্ষাৎ তাকে পেতে হচ্ছে; এতো ভয়ের কি কারন আছে?

১৬ মার্চের ঘটনা

দিনাজপুরের ফাসিলাডাঙ্গায় সোলায়মান আলী নামের এক ব্যক্তি মারা যান। তাঁর মরদেহ দাফনের জন্য স্বজন ও গ্রামবাসী কবরস্থানে সমবেত হয়েছিলেন। কবরস্থানের পাশে গাছের ডালে একটি মৌচাক ছিল। এ সময় দূর থেকে উড়ে আসা একটি ঘুড়ি মৌচাকে আঘাত করে। এতে গাছের নিচে থাকা উপস্থিত লোকজনকে আক্রমণ করে মৌমাছির ঝাঁক। মৌমাছির আক্রমণে আবদুর রৌফসহ ১৬ জন আহত হন। আহত লোকজনকে দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে আবদুর রৌফের মৃত্যু হয়। কারন আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- ‘তোমরা যেখানেই থাকনা কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, এমনকি সুউচ্চ সুদৃঢ় অবস্থান করলেও।’ (৪:৭৮)

বাংলাদেশসহ সমগ্র পৃথিবী করোনায় সন্ত্রস্ত। আবদুর রউফের মনেও হয়তো করোনা ভীতি উঁকি দিয়েছিল। অথচ মৃত্যুরূপে করোনা নয়, এলো মৌচাকে ঘুড়ির আঘাত ক্রুদ্ধ মৌমাছির আক্রমণ। ঘুড়ি মৌচাকে আঘাত করবে, তারপর মৌমাছির আক্রমণে আবদুর রউফের মৃত্যু হবে, এমন মৃত্যু সমবেত কারও কল্পনাতেও কী ছিল সেদিন। গত ১৫ এপ্রিল স্বামী মৃণাল কান্তির মোটরসাইকেলে কর্মস্থল পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন নার্স ইতি রানী।

পথে প্রচণ্ড ঝড়ে তাদের ওপর একটি গাছের মোটা ডাল ভেঙে পড়ে। এতে ইতি রানী রায় নিহত হন, আর স্বামী মৃণাল কান্তি আহত হন। এক মোটরসাইকেলে ভ্রমণ করে একজন নিহত, একজন আহত। করোনা তাণ্ডবের মাঝেই বেশ কয়েকজন বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে কয়েকজন। করোনা ছাড়া অন্য অসুখে মারা গিয়েছেন অনেকেই। তারপরও কেবলই করোনার ভয়ে কেন এমন নিষ্ঠুর, নির্মম আচরণ?

কোনো ঈমানদার মুমিন-মুসলিমের পক্ষে  এমন আচরণ করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। আসলে প্রকৃত পক্ষে ধর্ম থেকে, ধর্মীয় বাণী থেকে ধীরে ধীরে আমরা দূরে সরে যাচ্ছি। নৈতিক মান, মানবিকতার সৌন্দর্য অবগাহনে আমরা চরম ভাবে ব্যর্থ হচ্ছি। কোভিড-১৯ এর চরম দুর্দিনেও আমাদের শিক্ষা না হয়ে বরং আমরা আরো বেহিসেবী জীবন-যাপনের দিকে ঝঁকে পড়ছি। আল্লাহ আমাদের সহায় হউন। আমাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হউক।

লেখক: পিএইচডি গবেষক, ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়)।


mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ