দ্বিতীয়বার করোনা প্রণোদনার ঘোষণা আসতে পারে বললেন ট্রাম্প

১১১৩
ট্রাম্প

গত এক মাস ধরে একের পর এক দুঃসংবাদ ভর করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর। যুক্তরাস্ট্রে প্রেসিডেন্ট  নির্বাচনের মাত্র পাঁচ মাস বাকি। এই সময় প্রতিটি জাতীয় জনমত জরিপে তাকে টপকে এগিয়ে গেছেন ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন। এমনকি তাঁর জন্য নিরাপদ বিবেচিত অঙ্গরাজ্যেও বেশ জেঁকে বসেছেন বাইডেন। এই অবস্থায় একমাত্র প্রতিষেধক নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে ফিরে যাওয়া।

ট্রাম্প বরাবরই নির্বাচনী সভার উত্তাপ থেকে নিজের জন্য বাড়তি প্রাণশক্তি খুঁজে পেয়েছেন। সে জন্যই কোভিড-১৯-এর বিপদ জেনেও গতকাল শনিবার ওকলাহোমার টুলসাতে নির্বাচনী র্যালির আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকেও আশাহত হয়েছেন ট্রাম্প।

আশা করা হয়েছিল, সভাস্থল দর্শকে-সমর্থকে কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে। সেখানে মাত্র ১৯ হাজার মানুষের স্থান সংকুলান হয়, অথচ ১০ লাখ লোক টিকিটের আবেদন জানিয়ে রেখেছিল। ‘এমন সভা ওকলাহোমার মানুষ আগে কখনো দেখেনি’—ট্রাম্প আগাম আশাবাদ জানিয়ে রেখেছিলেন। যারা সভাস্থলে আসন পাবে না, তাদের জন্য বাইরের একটি উন্মুক্ত মঞ্চের ব্যবস্থা হয়েছিল। কম করে হলেও ৪০ হাজার মানুষ তো সেখানে থাকবেই। মূল মঞ্চে ঢোকার আগে ট্রাম্প সেখানে ভক্তদের দর্শন দিয়ে যাবেন, এমন ব্যবস্থাই করা ছিল।

কিছুই হলো না। ১৯ হাজারের জায়গায় বড়জোর সাড়ে ছয় হাজার দর্শক উপস্থিত। বাইরের উন্মুক্ত মঞ্চে ৪০ হাজার তো নয়ই, শ–খানেক লোকও অপেক্ষা করে নেই। সরকারি উড়োজাহাজে খুব নিচে দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ট্রাম্প দেখলেন সব খাঁ খাঁ করছে। সঙ্গে সঙ্গে উন্মুক্ত মঞ্চ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলেন তিনি।

এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বিক্ষোভকারীদের কারণে অনেকে মঞ্চে ঢুকতে পারেনি। একদিন আগে এক টুইটে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন—কেউ যদি বিক্ষোভ করার চেষ্টা করে, তাদের দেখে নেওয়া হবে। তারপরও অনুগত সমর্থকেরা কেন এল না, তার ব্যাখ্যায় জানানো হলো, ‘সব দোষ মিডিয়ার। তারা সবাইকে কোভিড-১৯–এর বিপদ নিয়ে অনবরত ভয় দেখিয়ে চলেছে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দ্বিতীয়বার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে বিকল্প পথেও হাঁটছেন ট্রাম্প। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দেশটির বেশিরভাগ রাজ্য লকডাউনের পর বেকার হয়ে পড়ে কোটি কোটি মানুষ। ঘরবন্দি মানুষদের প্রাথমিক পর্যায়ে বেকারত্বের ধকল সামলাতে প্রণোদনা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জনপ্রতি ১২০০ ডলার দেয়া হয় প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় এবং জনগণের দাঁড়াতে সুদূরপ্রসারী ব্যবস্থা নিতে ২ ট্রিলিয়ন কোটি ডলারের প্রণোদনা দেয়া হয়।যার মধ্যে জুনের শুরুতেই ১৫৯ মিলিয়ন ডলার প্রণোদনা সরাসরি ব্যাংকে ডিপোজিট হয়।

তবে গতকাল সোমবার মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিতীয়বার আরেকটি প্রণোদনার দরজা খোলা রাখছেন বলে জানান। কত ডলার সেটা হতে পারে সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমার এটা নিয়ে কাজ করছি, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা আসতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, আমরা আরেকটি প্রণোদনা দিতে পারি যেটা হবে মহৎ এবং ভাল। হোয়াইট হাউজ এনবিসি নিউজকে বলছে,নতুন প্রণোদনা নিয়ে 'ইকোনমিকস টিম' কাজ করছে তবে এ ব্যাপারে কোনো সিদ্বান্ত নেয়া হয়নি।

এর মধ্যে গত মে মাসে ডেমক্র্যাটদের ভোটে ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের (২০৮-১৯৯)আরেকটি প্রণোদনা বিল পাশ হয়। তবে রিপাবলিকানরা ভোট দেননি এই বিলে। যার ফলে রিপাবলিকান শাসিত সিনেটে এটি এখনো ঝুলে আছে।

নভেম্বরের নির্বাচনে নিজেদের ভোট ব্যাংক সুসংহত রাখার অভিপ্রায়ে ডেমক্র্যাটরা এমন বিল পাশ করল বলে যে অভিযোগ করেছিল রিপাবলিকানরা।এখন সেই পথে ট্রাম্প হাঁটছেন মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


শাহ আহমদ সাজ
শাহ আহমদ সাজ
https://www.awaazbd.net/author/awaaz-usa

শাহ আহমদ সাজ ১৯৮৭ সালে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জন্মগ্রহন করেন। শিক্ষা জীবনের শুরু ঢাকার সানরাইজ প্রি ক্যাডেট এন্ড কলেজে। তারপর ২০০৪ সালে কুলাউড়ার জালালাবাদ হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ২০০৬ সালে মদন মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ২০০৭ সালে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি অনার্সে ভর্তি হন।এরপর ইনফরমেশন টেকনোলজিতে পড়ালেখার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমান এবং ক্রাউন ইন্টারন্যাশনাল কলেজে ব্যাচেলর শেষ করেন। বর্তমানে সপরিবারের যুক্তরাস্ট্রে বসবাসরত শাহ আহমদ, ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য ও সৃজনশীল সবধরনের কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে আওয়াজবিডি ও সাপ্তাহিক আওয়াজবিডির প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশের দায়িত্ব পালন করছেন।শাহ আহমদ বাংলাদেশ ডন-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।

mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ