ভবিষ্যত পৃথিবী আমাদের কোথায় নিয়ে দাঁড় করাবে!

অনলাইন ডেস্ক
খুজিস্তা নূর-ই–নাহারিন (মুন্নি)
২৫ এপ্রিল ২০২০, ০৭:২১ পূর্বাহ্ণ
৩৯৭
খুজিস্তা নূর-ই–নাহারিন মুন্নি

আমরা দেশের মন্ত্রীদের নানারকম মন্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রায়ই সমালোচনা করি । এই সমালোচনা মেনে নিয়েই তাদের দায়িত্ব পালন করে যেতে হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাাম্পকে দেখেন, তাকে নিয়ে এ পর্যন্ত কম সমালোচনা হয়নি। তাই বলে ট্রাম্প থেমে নেই , তিনি করোনা থেকে দেশকে মুক্ত করতে চেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছেন। করোনা চিকিৎসায় মার্কিন প্রেসিডন্টে প্রথমে বলেছিলেন হাইড্রক্সিক্লুরোকুইনিনের কথা, এবার বলেছেন সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি শরীরের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে কিংবা জীবাণু নাশক দিয়ে কোন ভাবে করোনার চিকিৎসা করা যায়!

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এধররেন কথা শুনে তার দেশের লোকেরা হাসাহাসি করছেন। তিনি তো আর ডাক্তার নয় যে সূত্র মেনে গবেষণা করে কথা বলবেন। দেশের চলমান সংকট নিয়ে যে ট্রাম্প চিন্তা করেছেন এবং একটা উপায় বাতলানোর চেষ্টা করেছেন এটাই বা কম কিসে ! আামদের মন্ত্রীরাও অনেক সময় হাস্যকর কথা বলছেন, অযোৗক্তিক কথা বলে লোক হাসাচ্ছেন। তবে করোনা মুক্তির উপায় নিয়ে ভাবছেন। এই সংকটে এসব বিষয় বড় করে না দেখাটাই ভালো । বরং সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই জোর দেওয়া জরুরি।

এই মুহূর্তে যুক্তরাজ্যে করোনা প্রতিষেধকের চূড়ান্ত টেস্ট চলছে। এলিসা গ্রানাটো নামের ৩২ বছর বয়সী মেয়েটির শরীরে অক্সফোর্ডের নতুন ভ্যাকসিনটি দেয়া হয়। শরীরে এন্টিবডি তৈরি হলে তাকে দেয়া হবে করোনাভাইরাস। ভ্যাকসিন কাজ না করলে তার মৃত্যু পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। পৃথিবীর লাখো কোটি মানুষের জন্য এই মেয়েটি নিজের জীবনে ঝুঁকি নিচ্ছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার প্রার্থনা মেয়েটির সুস্থতা আর বেঁচে থাকা। এই মেয়েটি এই যাত্রায় বেঁচে গেলে পৃথিবী হয়তো আবারও আগের মত হাসবে। কিন্তু যদি এই পরীক্ষা বিফলে যায় কোনোদিন হয়তো আগের চেহারায় ফিরবে না আর চির চেনা পৃথিবী আর আমাদের জীবন।

কতোদিন আর এই দম আটকানো বদ্ধ জীবন। সর্ব সাধারণের স্বাস্থ্য রক্ষা নিশ্চিত করে চীন, সুইডেন, ইতালি, স্পেনের অনেক জায়গা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। অ্যামেরিকাতেও জীবিকার তাগিদে স্বল্প পরিসরে কিছু কিছু ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে লক ডাউন শিথিল করার চিন্তা ভাবনা শুরু হয়েছে।

আমাদের দেশেও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে মুদি দোকান, ব্যাংক, সরকারী অফিস, কৃষি, শিল্প, আদালত পর্যায়ক্রমে গার্মেন্টস এবং অন্যান্য সেক্টরে লক ডাউন শিথিল করতে বাধ্য হবে একটা সময়ে এসে। দেশকে সচল রাখতে অর্থনৈতিক মন্দা কাঁটিয়ে উঠতে ধীরে হলেও লক ডাউন খুলে দিতে হবে। জীবন আর জীবিকার স্বার্থে বাইরে বের হতেই হবে। এ সময়টাতে কেবল স্বাস্থ্যকর্মী নয় আমাদের মত আম জনতারও হয়তো যথেষ্ট প্রটেকশন থাকা জরুরি।

পিপিই, মাস্ক, গ্লাস, ফেস শিল্ডমগ করোনায় নিজেকে সুরক্ষিত করতে ফেসবুক অনলাইন শপে দেখলাম সবাই কেনা-কাটা করছেন। কে জানে এই করোনা হয়তো আমাদের নিত্য দিনের পোশাক-আশাক, খাওয়া-দাওয়া, জীবনাচরণ সব কিছুতেই পরিবর্তন এনে দিবে। অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, বিয়ে-শাদী সবখানেই সবাই ভিন্ন ভিন্ন রঙের পিপিই আর কালার ম্যাচিং মাস্ক পরেই উপস্থিত হবে। কিংবা পুরুষ আর নারীকে আলাদা করার জন্য হয়তো আলাদা রঙ কিংবা পিপিইর আদলে ওয়ান টাইম ইউস আলাদা ধরণের কোন পোশাক আবিষ্কৃত হবে। ফ্যাশন ডিজাইনাররা পিপিই নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা ডিজাইন করা শুরু করে দিয়েছে।

পৃথিবী জুড়ে যারা নাইট ক্লাবে যেতো. তাদের যাওয়অ বন্ধ হয়েছে। ক্যাসিনো, জুয়া বন্ধ হয়েছে, বিয়ে-জন্মদিন-পার্টির নামে অহেতুক অর্থ খরচ সাঁজ জ্জা বন্ধ হয়েছে। এরকম হাজারো আড্ডা অহেতুক অপচয় বন্ধ হবে।বিত্তবানরাও হয়তো নতুন করে চিন্তা করার সুযোগ পাবেন।তাদের মনে দেশ ও জাতির জন্য কিছু করার সংকল্প পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জাগ্রত হওয়া অস্বাভাবিক ভাবছেন কেন?

করোনা ভাইরাসটি বৈশ্বিক দুর্যোগ, এটা গোটা বিশ্বকে একটি মেসেজ দিয়ে গিয়েছে, সেটি হলো প্রকৃতির কাছে মানুষ বড় অসহায়। অর্থ-বিত্ত-ক্ষমতা কোন কিছুই কাজে আসে না সময় বিশেষে। আমরা যেনো না ভুলি মানুষ মানুষেরই জন্যে। জীবন জীবনেরই জন্যে। পরিবেশ ও প্রকৃতি ধ্বংস করলে মানুষের ধ্বংসও অনিবার্য। দেখা যাক আগামী দুই মাস, ভবিষ্যত পৃথিবী আমাদের কোথায় নিয়ে দাঁড় করায়!

লেখব: সম্পাদক, পূর্বপশ্চিম.নিউজ

রেদওয়ানুল/আওয়াজবিডি


mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ